আলোচিত আবুল হোসেনের বিদায়

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৩, ০২:৪০ এএম

সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল বুধবার ভোরে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। বিভিন্ন কারণে আলোচিত সাবেক এই মন্ত্রীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ভাগনে ও মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেন।

সৈয়দ আবুল হোসেনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। গতকাল সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে সংক্ষিপ্ত বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এছাড়াও তার মৃত্যুতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরসহ আরও অনেকে শোক প্রকাশ করেছেন।

সৈয়দ আবুল হোসেন ১৯৫১ সালে মাদারীপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পেশায় ছিলেন রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী। আওয়ামী লীগের হয়ে মাদারীপুর-৩ আসন থেকে ১৯৯১ সালে পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি সপ্তম, অষ্টম ও নবম সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরমধ্যে ২০০৯ থেকে ২০১২ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের যোগাযোগমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছেন।

সৈয়দ আবুল হোসেন স্ত্রী খাজা নার্গিস, দুই মেয়ে সৈয়দা রুবাইয়াত হোসেন এবং সৈয়দা ইফফাত হোসেনকে রেখে গেছেন।

২০১১ সালের ২৮ এপ্রিল পদ্মা সেতু নির্মাণে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১২০ কোটি ডলারের চুক্তি সই করে সরকার। কিন্তু বছরের শেষ দিকেই তৎকালীন যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরে ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি যোগাযোগমন্ত্রীর পদ থেকে সৈয়দ আবুল হোসেন পদত্যাগ করেন। সেতু বিভাগের তৎকালীন সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকেও দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হয়। এ সময় তাদের গ্রেপ্তারের দাবিও ওঠে।

যদিও ওই বছরের ২ ফেব্রুয়ারি সেতুর ঠিকাদার নিয়োগে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদন দেয় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। কিন্তু ৩০ জুন পদ্মা সেতুর ঋণচুক্তি বাতিল করে বিশ্বব্যাংক। তবে ৯ জুলাই মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

পরবর্তী সময়ে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতির অভিযোগে কানাডার আদালতে একটি মামলা হয়। দীর্ঘ ৫ বছরের দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৭ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি কানাডার আদালত জানায়, পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক ঋণ বাতিল করেছিল, তার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে সৈয়দ আবুল হোসেনের মৃত্যুতে তার নির্বাচনী এলাকা মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সেখানকার বর্তমান সংসদ সদস্য ড. আবদুস সোবাহান মিয়া বলেন, ‘তার (সৈয়দ আবুল হোসেন) অসমাপ্ত কাজগুলো যেভাবে আমি করছি এবং করব তেমনি তার পরিবারের পাশে যখনই প্রয়োজন হবে আমি পাশে থাকব। প্রধানমন্ত্রী পাশে থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন।’

জানা গেছে, সৈয়দ আবুল হোসেন ব্যক্তিগত অর্থায়নে শেখ হাসিনা উইমেন্স কলেজ, ডিকে আতাহার আলী কলেজ, খোয়াজপুর সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ, সৈয়দ আবুল হোসেন এবিসি কলেজ, খাসেরহাট সৈয়দ আবুল হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজসহ একশর বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণ করেছেন।

কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান সাহিন বলেন, ‘আমরা কালকিনি-ডাসারবাসী একজন অভিভাবক  হারিয়েছি। কেউ কখনো বিপদে পড়লে বা সহযোগিতা প্রয়োজন হলে তার (আবুল হোসেন) কাছে গেলে সেই কাজটি একেবারে হৃদয় থেকে করতেন। তিনি মানুষকে অনেক ভালোবাসতেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত