তাসকিনরা কথা রেখেছেন। ভারতের বিশ্বকাপে উইকেটগুলোতে জোরে বোলারদের জন্য তেমন কিছু নেই। তবে সেটাকে বল হাতে ভালো করতে না পারার অজুহাত হিসেবে দেখাতে চাননি বাংলাদেশের ফাস্ট বোলার। ইডেন গার্ডেনসে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচের আগের দিন বলেছিলেন উইকেটে যাই থাকুক, পেসাররা নিজেদের উন্নতি করতে যথেষ্ট পরিশ্রম করছে। আরও বলেছিলেন পেস ইউনিট জ্বলে না উঠলে দলের জয়ে ফেরা কঠিন হবে। পরিশ্রম যে আসলেই করেছেন পেসারত্রয়ী, তার প্রমাণ মিলেছে কাল। তাসকিন-মোস্তাফিজ-শরীফুলদের গতি আর বৈচিত্র্যে খেই হারিয়েছে ডাচ ব্যাটিং। তিন পেসার মিলে নিয়েছেন ৬ উইকেট। তারপরও ডাচদের রানটা ২২৯-এ পৌঁছেছে একাধিক ক্যাচ মিসে।
ডাচরা লড়াই করার পুঁজি পেয়েছিল অধিনায়ক স্কট অ্যাডওয়ার্ডসের ৬৮ রানের ইনিংসে। অথচ এই ব্যাটার রানের খাতা খোলার আগেই মোস্তাফিজের এক ওভারে দুবার বেঁচে গেছেন লিটন কুমার দাস ও মুশফিকুর রহিমের কল্যাণে। প্রতিপক্ষের জোড়া উপহারে ডাচ অধিনায়ক ক্যারিয়ারের ১৫তম হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন। দুর্ভাগ্য মোস্তাফিজের। তার করা ৪৩তম ওভারেও মেহেদী হাসান মিরাজের হাত ফসকেছে সিব্র্যান্ড এঙ্গেলব্রেখটের ক্যাচ। তাই পেসারদের ছন্দে ফেরার ম্যাচে যে ইউনিট নিয়ে এতদিন অস্বস্তি ছিল না, সেই ফিল্ডিংটাই ভীষণ নড়বড়ে হয়েছে।
অথচ টসে হেরে বোলিং পেয়ে খুব অখুশি হননি বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তাসকিন, শরিফুলরা নতুন বলে পরপর দু-ওভারে দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে শুরুর অস্বস্তিটা কাটিয়ে দেন। তাসকিনের প্রথম ওভারের চতুর্থ বলটি ফ্লিক করতে গিয়ে মিড অফে সাকিবকে সহজ ক্যাচ দেন বিক্রমজিৎ সিং। পরের ওভারেই অপর ওপেনার ম্যাক্স ও’ডাউড রানের খাতার খোলার আগেই শরিফুলের অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বল খোঁচা দিয়ে বসেন। প্রথম সিøপে সেটা তালুতে জমিয়ে ফেলেন তানজিদ হাসান তামিম। শুরুর ধাক্কা সামলে ওয়েসলে বারেসি ও কলিন অ্যাকারম্যান থিতু হয়েছিলেন উইকেটে। গড়েছিলেন ৫৯ রানের জুটি। তবে আক্রমণে এসে দ্বিতীয় ওভারেই ব্রেক থ্রু দেন মোস্তাফিজ। ৪১ বলে ৬ চারে ৪১ করা বারেসি উড়িয়ে মারতে গিয়ে মিস টাইমিং করেন। মিড অনে অনেকটা দৌড়ে এসে বড্ড সতর্কতায় ক্যাচটা লুফে নেন সাকিব। পরের ওভারেই অ্যাকারম্যানকে ফেরান সাকিব। তার লেগ স্টাম্পের বাইরের বল সুইপ করতে গিয়ে ফাইন লেগে মোস্তাফিজুরকে ক্যাচ দেন ৩৩ বলে ১৫ করা ডাচ ব্যাটার। ৬৩ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর মনে হচ্ছিল ডাচদের সংগ্রহ দেড়শ পেরুনোই কঠিন। তবে কমলাদের জন্য উপহারের ডালি নিয়ে বসেছিলেন লিটন ও মুশফিক। তাদের অসতর্কতায় রানের খাতা খোলার আগেই দুবার বেঁচে যান ডাচ অধিনায়ক স্কট এডওয়ার্ডস। মোস্তাফিজের করা ১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে কাট করতে গিয়ে গালিতে লিটনকে ক্যাচ দিয়েছিলেন এডওয়ার্ডস। সেটা লুফতে পারেননি লিটন। এর দুই বল পর পেছনে খোঁচা দিয়ে বেঁচে যান মুশফিকের ব্যর্থতায়। জোড়া জীবন পাওয়া ডাচ অধিনায়ক পরে বাস ডি-লিডের সঙ্গে ৪৪ ও এঙ্গেলব্রেখটের সঙ্গে ৭৮ রানের জুটি গড়েন। ২৭তম ওভারে তাসকিনের পেসে পরাস্ত হন ডি লিডে, খোঁচা দিয়ে মুশফিককে ক্যাচ দেওয়ার আগে করেন ৩২ বলে ১৭ রান। আর দলের সংগ্রহটা দুশো পেরুনো নিশ্চিত হয় এওয়ার্ডস ও এঙ্গেলব্রেখটে সময়োচিত ব্যাটিংয়ে। আবারও দুর্ভাগ্য মোস্তাফিজুরের, ৪৩তম ওভারে তার কাটার উড়িয়ে মারতে গিয়ে আকাশে তুলে দিয়েছিলেন ২৯ রানে থাকা এঙ্গেলব্রেখট। ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সেই ক্যাচ রাখতে পারেননি মিরাজ। তবে পরের ওভারেই এডওয়ার্ডকে সেই মিরাজের হাতের ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন মোস্তাফিজ। তার আগে অবশ্য ৮৯ বলে ৬ চারে ৬৮ রান করে বাংলাদেশকে চাপে ফেলেছেন ডাচ অধিনায়ক। এর পরপরই ৬১ বলে ৩৫ রান করা এঙ্গেলব্রেখটকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন শেখ মেহেদি। তবে এই স্পিনারকে দিয়ে ইনিংসের শেষ ওভার করিয়ে বড় ভুলটাই করেছিলেন সাকিব। মেহেদির সেই ওভারের প্রথম ৫ বল থেকে লোগ্যান ফন বিক ১৭ রান তুলে নেন। ইনিংসের শেষ ওভারে গুটিয়ে যাওয়ার আগে ফন বিকের ১৬ বলের ২৩ রানের ক্যামিও ডাচদের দেয় সম্মানজনক সংগ্রহ।
তারপরও ডাচদের সংগ্রহটা ধরাছোঁয়ার বাইরে যায়নি পেসারদের জ্বলে ওঠায়। আগের চার ম্যাচে পেসাররা নিয়েছিলেন মোটে ৯ উইকেট। কাল ইডেনে নিলেন ছয়টি। রান দেওয়ার ক্ষেত্রেও তারা ছিলেন হিসাবি। মোস্তাফিজ ২ উইকেট নিয়েছেন মাত্র ৩৬ রান খরচায়। তাসকিন আর শরীফুল ২টি করে শিকার করেছেন যথাক্রমে ৪৩ ও ৫১ রানের বিনিময়ে। তবে টপ অর্ডারে ব্যর্থতায় সেই লক্ষ্যটাও হয়ে ওঠে এভারেস্ট জয়ের মতোই চ্যালেঞ্জিং।