দেশে ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে প্রতি মাসে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স আসে তার ১০ শতাংশ প্রত্যেক ব্যাংককে আন্তঃব্যাংক মার্কেটে বিক্রি করতে হবে। যার সর্বোচ্চ দর হবে ১১৪ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) এবং অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) এক সভায় নতুন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সভায় ডলারের আনুষ্ঠানিক দামও আরেক দফা বাড়ানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আফজাল করিম বলেন, আন্তঃব্যাংক মার্কেট চালু করার জন্য নতুন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো আমদানিকারকদের কাছে ১১১ টাকায় ডলার বিক্রি করতে পারবে। আগে আমদানি দায় মেটানোর জন্য ব্যাংকগুলো আমদানিকারকদের কাছে প্রতি ডলার ১১০ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি করছিল। আর পণ্য বা সেবা রপ্তানি ও প্রবাসী আয় কেনায় ডলারের দাম হবে ১১০ টাকা ৫০ পয়সা। আগে ব্যাংকগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবাসী আয় এবং রপ্তানিকারকদের প্রতি ডলারের জন্য ১১০ টাকা দিয়ে আসছিল।
এ ছাড়া সভায় বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পড়তে যাওয়ার জন্য নতুন স্টুডেন্ট ফাইল খোলা এবং ক্রেডিট কার্ডের ডলার রেটের ক্ষেত্রেও নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে স্টুডেন্ট ফাইল ও ক্রেডিট কার্ডের বিল পেমেন্ট হবে ক্যাশ ডলার রেটে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর গত বছর মার্চ থেকে দেশে ডলার-সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। এ সংকট মোকাবিলায় শুরুতে ডলারের দাম বেঁধে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে সংকট আরও বেড়ে যায়। পরে গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ ব্যাংক ডলারের দাম নির্ধারণের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায়। এ দায়িত্ব দেওয়া হয় এবিবি ও বাফেদার ওপর। এরপর থেকেই সংগঠন দুটি মিলে রপ্তানি ও প্রবাসী আয় এবং আমদানি দায় পরিশোধের ক্ষেত্রে ডলারের দাম নির্ধারণ করে আসছে। মূলত বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত কার্যকর করছে এ দুই সংগঠন।
ব্যাংকাররা বলছেন, বাজারে যে দামে ডলার কেনাবেচা হচ্ছে, তার চেয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক দাম কম। এ কারণে সামনে ডলারের দাম আরও বাড়াতে হতে পারে।
