বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভরাডুবির পেছনে ক্রিকেটারদের সামর্থ্য কিংবা প্রতিভার ঘাটতি দেখছেন না ইরফান পাঠান। ভারতের সাবেক অলরাউন্ডারের মতে, নিজেদের ভুল সিদ্ধান্তগুলোই ডুবিয়েছে বাংলাদেশকে। বৈশ্বিক আসরের মতো বড় মঞ্চে অভিজ্ঞ ওপেনার তামিম ইকবালকে না রাখা সবার মতো অবাক করেছে ইরফানকেও।
সেমিফাইনালের খেলার স্বপ্ন নিয়ে ভারতে যায় বাংলাদেশ। সেই পথে শুরুটাও হয় তাদের দারুণ। প্রথম ম্যাচে হারিয়ে দেয় আফগানিস্তানকে। কিন্তু এরপরই ছন্দপতন। টানা ৬ ম্যাচ হেরে শীর্ষ চারের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ।
এমনকি তারা হেরেছে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গেও। ওই ম্যাচের পর দলটির অধিনায়ক সাকিব আল হাসান অকপটেই স্বীকার করে নেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে বিশ্বকাপ এটি।
এশিয়ার দলটির এমন পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ইরফান বলেন, ‘এটা বিরাট পতন। এমন নয় যে, এই দলে কোনো ক্রিকেটার নেই যারা বাইরে গিয়ে লিগ খেলে। মুস্তাফিজুর রহমান দেশের বাইরে লিগ খেলে। মাহমুদউল্লাহ অনেক বছর ধরে ক্রিকেট খেলছে। তাসকিন আহমেদকেও বাইরে লিগে খেলতে দেখা যায়। শীর্ষ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানও বাইরের লিগ খেলে।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের ভালো করার সামর্থ্য ছিল না, এমনটা মনে হয় না ইরফানের। তার মতে, মাঠের বাইরের বিষয়গুলো ভুগিয়েছে দলটিকে, ‘বাংলাদেশ দলে মানসম্পন্ন ক্রিকেটার আছে। কিন্তু এই ক্রিকেটাররা একত্রিত হয়ে পারফর্ম করতে পারছে না। এর মানে সামর্থ্যের অভাব বাংলাদেশ দলের সমস্যা নয়। এই দলের অন্য আরও অনেক সমস্যা আছে। মাঠ ও মাঠের বাইরের সমস্যাগুলো সমাধানে মনোযোগী হতে হবে বাংলাদেশকে।’
ইরফান বলতে চেয়েছেন বিশ্বকাপের আগে মুহূর্তে তামিমকে নিয়ে যে নাটক হয়েছে বাংলাদেশে, সেটির কথা। তামিম কেন বিশ্বকাপ দলে নেই সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি, ‘আমি বরাবরই বলছি, বাংলাদেশের ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের ভুল ও বাজে সিদ্ধান্তের কারণেই তাদের ক্রিকেট ডুবছে। আমরা তাদের মাঠের বাইরের বিভিন্ন সমস্যার কথা জানি। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলে তামিম ইকবাল নেই কেন? এই দলে অবশ্যই তামিমের থাকা উচিত ছিল।’
ইফরানের মতে, তামিমকে ঠিকমতো সামলাতে পারেনি বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট ও সংশ্লিষ্টরা, ‘এক বছর আগ পর্যন্তও ধারাবাহিকভাবে রান ছিল সে। কিন্তু তামিম বিশ্বকাপে নেই। সে নেই কেন-কারণ তাকে তার পছন্দের পজিশন দেওয়া হয়নি কিংবা যা-ই হোক। অথবা তাকে টিম ম্যানেজমেন্ট বা কোচরা সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারেনি এবং আরও অনেক নেতিবাচক বিষয় সামনে এসেছে।’
বাংলাদেশের পরের ম্যাচ শ্রীলঙ্কার সঙ্গে আগামী ৬ নভেম্বর। ১১ নভেম্বর অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ শেষ হবে সাকিব-লিটনদের।
