গাছ কাটার প্রতিবাদ, ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন জাবি উপাচার্য

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:৩৭ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য গাছ কাটার প্রতিবাদে প্রশাসনিক ভবনে তালা দিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল আলমকে ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন শিক্ষার্থীরা। আজ দুপুর সোয়া ১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তাকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১টায় একদল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক ঘুরে নতুন রেজিস্ট্রার (প্রশাসনিক) ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে সোয়া ১টার দিকে রেজিস্ট্রার ভবনের প্রবেশপথে তালা লাগিয়ে সেখানে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। গাছ কাটার সাথে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত বিচার করা, তদন্ত কমিটি গঠন করা এবং ভবন নির্মাণের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্ধারণ করার দাবিতে অবস্থান নেন তারা। 

অবরোধের এক ঘণ্টা পর উপাচার্য সেখানে উপস্থিত হয়ে গাছ কাটার বিষয়টি বিষয়টি তদন্ত করা হবে আশ্বাস্ত করেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে ফের তালা লাগিয়ে দেন তারা। পরে রাত ৮টায় উপাচার্য রেজিস্ট্রার ভবন থেকে বেরিয়ে যান। 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইন্সটিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) পার্শ্ববর্তী সুন্দরবন এলাকা থেকে গাছ কাটার প্রতিবাদে গতকাল থেকে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। কমিটির সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মনজুরুল হক। সদস্যরা হলেন- সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক বশির আহমেদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃক্ষরোপণ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক আতিকুর রহমান এবং সদস্য সচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনজীবি মাহতাব উজ জাহিদ।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. নূরুল আলম শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘কারা গাছ কেটেছে, কখন কেটেছে- আমরা কিছুই জানি না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে গাছ কাটার জন্য এস্টেট শাখার কাছে আবেদন করতে হয়। প্রশাসন থেকে অনুমতি দেওয়া হলে তারপর এস্টেট শাখা গাছগুলো কেটে নেয়। কিন্তু আমারা কাউকে গাছ কাটার অনুমতি দেইনি। কারা কেটেছে আমরা সে বিষয়ে আলোচনা করছি। আমরা গাছ কাটার দায় নিব না। তদন্ত করা হবে। বিষয়টি সিন্ডিকেটে তোলা হবে। সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক দল শিক্ষার্থী বেলা সোয়া ১১টার দিকে গাছ কাটার স্থানে ২০টি গাছ রোপণ করেন। পরে বেলা ২টায় একই জায়গায় ‘সুন্দরবন পুনরুত্থান ' নামক একটি পথনাটক প্রদর্শন করেন শিক্ষার্থীরা। নাটকে বিভিন্ন সংলাপের মাধ্যমে গাছ কাটার প্রতিবাদ জানান তারা। 

গাছ কাটার বিষয়টি প্রশাসন জানে না বলে অস্বীকার করলেও স্বীকার করেছেন আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক কে এম জাহিদুল ইসলাম। তিনি দেশ রুপান্তরকে বলেন, ‘গাছগুলো এস্টেট অফিসকে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। গাছগুলো ক্যাম্পাসেই থাকার কথা। কোথায় রাখা আছে আমি জানি না।’ রাতের আধারে গাছ কাটা হলো কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ওয়ার্কঅর্ডার যারা পেয়েছেন তারা গাছগুলো কেটেছেন। তারা তাদের উপযুক্ত সময়ে গাছ কেটেছেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত