বৃষ্টি হলেই হাঁটুপানি জমে চান্দনা পোস্ট অফিসে

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৩, ০৪:৩৫ এএম

গাজীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকায় কোনো সাব-পোস্ট অফিস নেই। চান্দনা শাখা পোস্ট অফিসের কার্যক্রম চলে সাবেক বাসন ইউনিয়ন পরিষদের পরিত্যক্ত ভবনের একটি কক্ষে। জরাজীর্ণ ভবনটির জানালা-দরজা ভাঙা। সামনে সিএনজি অটোরিকশা ও লেগুনার স্ট্যান্ড স্থাপন করে পোস্ট অফিসে যাতায়াতের পথটিও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বৃষ্টি হলেই পোস্ট অফিসের ভেতরে হাঁটু পানি জমে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ পোস্ট অফিসটির পোস্ট মাস্টার, পোস্টম্যান, ও সেবাগ্রহীতাদের প্রতিনিয়তই ভোগান্তির শিকার হতে হয়।

জানা যায়, গাজীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র চান্দনা-চৌরাস্তা ও আশপাশের এলাকায় বহু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি অফিস, কল-কারখানা থাকায় প্রতিদিন হাজার হাজার চিঠিপত্র ও বোর্ড-বিশ্ববিদ্যালয়ের খাতাসহ গুরুত্বপূর্ণ পার্সেল-ডকুমেন্ট এ অফিসে আসে। কিন্তু অফিস কক্ষের দরজা-জানালা ভাঙা থাকায় এবং ছাদে ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ায় এসব ডকুমেন্ট খুবই নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রাখতে হচ্ছে। সাবেক বাসন ইউপির এই ভবনটি প্রায় আট বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করে গাজীপুর সিটি করপোরেশন। অফিসে কোনো টয়লেট এবং পানির ব্যবস্থা নেই। অফিস কক্ষের সামনেই ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ও সিএনজি অটোরিকশা-লেগুনার স্ট্যান্ড। পরিবহনের শ্রমিকরা ও অনেক পথচারী পাশের ময়লার স্তূপে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করে। এজন্য সারাক্ষণ জানালায় ভারী পর্দা টানিয়ে অফিসে বসে থাকতে হয় পোস্ট মাস্টারকে। গত করোনা মহামারীকালে কিছুদিন পোস্ট অফিসের কার্যক্রম বন্ধ থাকলে অফিসের তালা ভেঙে ফ্যান ও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট চুরি হয়। আবারও এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

পোস্টম্যান তমিজ উদ্দিন বলেন, ‘অফিসের সামনের জায়গা উঁচু থাকায় বৃষ্টির পানি গিয়ে পোস্ট অফিসের নিচু বারান্দা ও মেঝেতে গিয়ে গড়ায়। এতে সেখানে পানি জমে গিয়ে ৩-৪ ফুট হয়ে যায়। শেষে মোটর লাগিয়ে পানি সেচে অফিস করতে হয়।’

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চান্দনা-চৌরাস্তা গাজীপুর শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে শাখা অফিসটি বাদ দিয়ে সাব-পোস্ট অফিস স্থাপন করা জরুরি। এতে সবারই ভোগান্তি কমবে।’

চান্দনা পোস্ট অফিসের মাস্টার ফারজানা বলেন, ‘২০১৯ সালের শেষের দিকে এ পোস্ট অফিসে যোগদানের পর থেকেই নানা সমস্যা দেখছি। অফিসের একমাত্র দরজাটিসহ তিনটি জানালার দুটিই ভাঙা। অন্য অফিসে গিয়ে টয়লেট ও খাবার পানি ব্যবহার করতে হচ্ছে। একজন নারীর পক্ষে এটা খুবই কষ্টকর। জরাজীর্ণ ভবনে খুবই আতঙ্কের মধ্যে অফিস করছি। যতটুকু সম্ভব গুরুত্বপূর্ণ কিছু সামগ্রী-উপকরণ নিজের ব্যাগে করে বাসায় নিয়ে যাই। আবার অফিসে আসার সময় নিয়ে আসি। কিন্তু সবকিছু তো আর সরানো সম্ভব নয়। এ ছাড়া পাশের আবর্জনার স্তূপের নোংরা দুর্গন্ধে অফিসে বসে থাকাই কষ্টকর। অফিসটি অন্যত্র স্থানান্তর করা জরুরি। এ ব্যাপারে ডাক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি।’

ঢাক বিভাগের পরিদর্শক (প্রশাসন) মো. সুমন মিয়া বলেন, ‘চান্দনা পোস্ট অফিসটি শাখা অফিস হওয়ায় এর স্থাপনার জন্য সরকারি বরাদ্দের সুযোগ নেই। তারপরও অফিসটি অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করছি। কেউ যদি একটি কক্ষের ব্যবস্থা করেন তবে দ্রুত তা স্থানান্তর করা সম্ভব হবে।’ সাব-পোস্ট অফিসের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এলাকাবাসী ঢাকা বিভাগের ডেপুটি পোস্ট মাস্টার বরাবর আবেদন করলে সাব-পোস্ট অফিস স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত