আলোচনায় না গিয়ে ইসিকে খোলা চিঠি বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৩, ০৫:১৯ পিএম

সহিংস পরিস্থিতিতে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে দিতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

তিনি বলেন, দেশের প্রবল বৈরী ও সংঘাত-সংঘর্ষের পরিস্থিতিতে দেশে এখন অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোন পরিবেশ নেই। তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে পরিস্কার নৈতিক অবস্থান গ্রহণ করতে পারেন।

আজ শনিবার দলিয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার ও সরকারি দল যদি জবরদস্তি করে নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানে বাধ্য করতে চায় তাহলে বাস্তব পরিস্থিতি ও বিবেকের দায় নিয়ে কমিশনের সদস্যরা দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন।তিনি বলেন, দেশ ও দেশের মানুষ কোনভাবেই আর একটি ব্যর্থ, অকার্যকর ও একতরফা তামাশার নির্বাচনের দায় নিতে পারবে না।

খোলা চিঠিতে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে আজ ৪ অক্টোবর ২০২৩ বিকাল ৩ টায় আমাদেরকে নির্বাচন কমিশন আহুত আলোচনা সভায় অংশ নেবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমরা এই আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করার প্রয়োজন মনে করছি না। আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা সম্পর্কে আমাদের মতামত ও প্রস্তাব নিম্নরুপ এ-ধরনের

১। আপনারা আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির অগ্রগতিসহ সার্বিক বিষয়ে আলোচনার জন্য আজ যে সভার আয়োজন করেছেন তা বিশেষ কোন ফল বয়ে আনবে বলে আমরা মনে করতে পারছি না। আমাদের মনে হয়েছে এটা নিছক আনুষ্ঠানিকতা ও আপনাদের দিক থেকে এক ধরনের ব্রীফিং।

২। গতবছর আমরা আপনাদের আহুত সংলাপে অংশ নিয়েছিলাম। সংলাপে আমাদের দিক থেকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনেকগুলো মতামত ও পরামর্শ দিয়েছিলাম। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেসব আপনারা আমলে নিয়েছেন বলে কোন তথ্য নেই।

৩। গণমাধ্যমে জানতে পেরেছি কয়েকদিন পর নভেম্বরের মাঝামাঝি আপনারা জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছেন। কিন্তু দেশের প্রবল সংঘাতময় ও অস্থিতিশীল সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য মোটেও  অনুকুলে নয়। নির্বাচন কমিশনেরও কেউ কেউ এই ধরনের বক্তব্যই দিয়েছেন। তারা বাস্তব পরিস্থিতিকেই তুলে ধরেছেন সন্দেহ নেই। আর আপনারা নিশ্চয়ই ভালভাবে অবহিত আছেন যে, দেশের প্রায় সকল বিরোধী দল বর্তমান কর্তৃত্ববাদী ও দমনমূলক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনে অংগ্রহন করবে না বলে পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছে। আর আপনাদের বর্তমান নির্বাচন কমিশনকেও সকল বিরোধী দল ও ভোটারেরা পুরোপুরি পক্ষপাতদুষ্ট বলেই মনে করে।

৪। আমরা সুস্পষ্টভাবে মনে করি সরকার প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধাত্বক অবস্থান থেকে বিএনপিসহ তাদের রাজনৈতিক বিরোধীদের উপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালিয়ে যে পরিস্থিতি তৈরি করছে তা কোনভাবেই একটি নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের সহায়ক নয়। এরকম অবস্থায় একতরফা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে চরম দায়িত্বহীন পদক্ষেপ। নির্বাচন কমিশনের এরকম তৎপরতা হবে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মত সরকার ও সরকারি দলের আর একটি নীলনকশার, আর একটি সাজানো নির্বাচনী তামাশা মাত্র। বিদ্যমান অবস্থায় তফসিল ঘোষণার অর্থ হবে বিরোধী দলসমূহকে নির্বাচনের বাইরে রেখে সরকার ও সরকারি দলের নির্বাচনী নীলনকশা বাস্তবায়নের সহযোগী হওয়া।

৫। গত দুইটি প্রহসনমূলক জাতীয় নির্বাচনের পর বাস্তবে গোটা নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনী ব্যবস্থা বলে কিছু নেই। এই পরিস্থিতি উত্তরণে এই পর্যন্ত আপনাদের দিক থেকে কার্যকরি কোন  উদ্যোগ দেখা যায়নি। আর আপনারা অবহিত আছেন যে, বিরোধী দলসমূহ আপনাদেরকে সরকার ও সরকারি দলের ইচ্ছাপূরণের সহযোগী হিসাবে বিবেচনা করে আগামীতে নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে আপনাদের পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছে। এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন তফসিল ঘোষণা হবে ভোটের অধিকার বঞ্চিত দেশের জনগণ ও বিরোধী দলসমূহের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করা।

৬। আমরা জানি যে, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা আপনাদের দায়িত্ব। কিন্তু দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী দলসমূহ ও জনগণকে আস্থায় না নিয়ে একতরফা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা দেশের নির্বাচনকেন্দ্রীক সংকট আরও ঘনীভূত করবে এবং দেশকে ভয়ংকর বিপর্যয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে। এই ধরনের একটা পরিস্থিতি তৈরির দায়দায়িত্ব আপনাদের উপরও বর্তাবে। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় বাস্তবে দলনিরপেক্ষ সরকার ব্যতিরেকে  অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের কোন অবকাশ নেই।

৭। আপনারা একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান; সরকারের অঙ্গ সংগঠন নন। দেশের প্রবল বৈরী ও সংঘাত - সহিংস পরিস্থিতিতে আপনারা এই অবস্থান সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানিয়ে দিতে পারেন যে, দেশে এখন অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের কোন পরিবেশ নেই। এই কারণে তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে দিয়ে নির্বাচনের প্রশ্নে রাজনৈতিক দলসমূহের মধ্যে আপনারা প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে বাস্তব ও নৈতিক অবস্থান গ্রহণ করতে পারেন। সরকার ও সরকারি দল যদি  তারপরও জবরদস্তি করে আপনাদেরকে একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানে  নানাভাবে বাধ্য করতে চায় সেক্ষেত্রে নৈতিক ও বিবেকের দায় নিয়ে কমিশনের দায়িত্ব থেকে আপনারা সরে দাঁড়াতে পারেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত