বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স যাচ্ছেতাই। আফগানিস্তান ছাড়া আর কাউকেই হারাতে পারেনি তারা। হারতে হয়েছে নেদারল্যান্ডসের মতো দলের বিপক্ষেও। যে দলটা সেমিফাইনালে খেলার লক্ষ্য নিয়ে গিয়েছিল, তারাই এবার মান বাঁচাতে যেন মাঠে নামছে। দলের এমন বাজে সময়ে প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে এসে জানালেন, তার কোচিংয়ের সেরাটা দেখানো হবে বিশ্বকাপের পর।
চলতি বছরের মার্চে নতুন করে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ হয়ে এসেছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। শুরুর কয়েক সিরিজ সাফল্য পেলেও ধীরে ধীরে ব্যর্থতার বৃত্তে ঢুকে যায়। ধারাবাহিক ব্যর্থতায় বিশ্বকাপে ভরাডুবি দেখছে দেশের ভক্ত-সমর্থকরা। ক্রমাগত এই ব্যর্থতার কারণে কোচের উপর ক্ষোভ জমেছে দেশের ক্রিকেট ভক্তদের।
আগামীকাল (সোমবার) শ্রীংলঙ্কার বিপক্ষে দিল্লিতে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। তার আগে আজ দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন হাথুরুসিংহে। এ সময় বিশ্বকাপ ব্যর্থতার প্রশ্নে টাইগারদের প্রধান এই কোচ বলেন, ‘আমার আসল কাজ শুরু হবে বিশ্বকাপের পরে। আগের সাত মাসে কিছুই করার ছিল না।’
হাথুরুসিংহে বলেন, ‘দলটা যে অবস্থায় ছিল সেখান থেকে নিয়ে এখনকার জন্য প্রস্তুত করেছি। আসলে আমার কাজ শুরু হবে এরপর। বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হওয়া একরকম, আর দলকে সামনে নিয়ে যাওয়া আরেক চ্যালেঞ্জ।'
গত সাতমাসে অনেককিছুই নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে ঘটেছে বলে মন্তব্য হাথুরুসিংহের, ‘দেখুন আমি সাত মাস আগে কাজ শুরু করেছি। আমার হাতে কেবল সাত মাস সময় ছিল। এর মাঝে বেশ কিছু জিনিস ঘটেছে যা আমার নিয়ন্ত্রণে ছিল না। আমার মনে হয় এটা নিয়ে আলোচনা করা কিংবা ভাবার সঠিক সময় নয়। ’
আপাতত ভাবনায় শুধুই শ্রীলঙ্কা ম্যাচ জানিয়ে চন্ডিকা বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমার ভাবনায় শুধু সামনের ম্যাচ। পরের ম্যাচটা আমরা কিভাবে জিততে পারি সেটাই ভাবছি। আমরা সবকিছুই ঠিকঠাক করছি। ট্রেনিং করছি, খেলোয়াড়দের মুড ভালো, তারা সবাই কঠোরভাবে চেষ্টা করছে। তারা সবাই ভালো করতে চায়। এই মুহূর্তে আমার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ যতটা সম্ভব সবাইকে সবদিক থেকে চাপমুক্ত রাখা।
সেমিফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ হলেও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জায়গা পাওয়ার লক্ষ্য বাংলাদেশের। হাথুরু বলেন, 'শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ সাম্প্রতিক অতীতে বেশকিছু ভাল ম্যাচ খেলেছে। বিশ্বকাপে দুই দলই একই অবস্থায় আছে। যেহেতু আমরা সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ হারিয়েছি। আমাদের এখন লক্ষ্য চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে জায়গা করে নেওয়া। এই ম্যাচ তাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ।'
