সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ, ফেরেশতা, নবী-রাসুল, আসমানি কিতাব এবং শেষ দিবসের প্রতি একজন মুমিনের দৃঢ় বিশ্বাস রাখার পাশাপাশি জীবন চলার পথে বেশ কিছু বিষয় ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা মুমিন বান্দাকে অর্জন করে নিতে হয়। তবেই একজন সাধারণ মুমিন প্রকৃত ইমানদার ও আল্লাহর প্রিয় হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করতে পারে। তেমনি মুমিনের তিনটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হলো।
আল্লাহর সাক্ষাৎ পেতে উদগ্রীব
হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর যে আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন। এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর নবী! মৃত্যুকে অপছন্দের কথা বলছেন? আমরা প্রত্যেকেই মৃত্যুকে অপছন্দ করি। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, সেটা নয়, বরং (মৃত্যুর সময়) যখন মুমিনকে আল্লাহর রহমত, সন্তুষ্টি ও জান্নাতের খোশখবর দেওয়া হয় তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ পছন্দ করে, আল্লাহও তার সাক্ষাৎ পছন্দ করেন। আর কাফেরকে যখন (মৃত্যুর সময়) আল্লাহর আজাব ও গজবের সুখবর দেওয়া হয়, তখন সে আল্লাহর সাক্ষাৎ অপছন্দ করে। আল্লাহও তার সাক্ষাৎ অপছন্দ করেন।’ সহিহ মুসলিম : ২৬৮৫
মধুর দাম্পত্যজীবন
স্বামী-স্ত্রীর পরস্পর আন্তরিকতা ও ভালোবাসা আল্লাহর দেওয়া এক অপূর্ব নিয়ামত। তাই কোনো মুমিন দম্পতি একে অন্যের প্রতি ঘৃণার আচরণ করতে পারে না; বরং কারও ভুল হলে পরস্পর সমাধানে এগিয়ে আসে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহর রাসুল (সা.) এক হাদিসে বলেছেন, ‘কোনো মুমিন পুরুষ কোনো মুমিন নারীর প্রতি বিদ্বেষ-ঘৃণা পোষণ করবে না; কেননা তার কোনো চরিত্র-অভ্যাসকে অপছন্দ করলে তার অন্য কোনো চরিত্র-অভ্যাস সে পছন্দ করবে।’ সহিহ মুসলিম : ৩৫৪০
কোরআন তিলাওয়াত
নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোরআন তিলাওয়াত করে, তার দৃষ্টান্ত এমন লেবুর মতো, যা সুস্বাদু ও সুগন্ধযুক্ত। আর যে ব্যক্তি (মুমিন) কোরআন পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত এমন খেজুরের মতো, যা সুগন্ধহীন কিন্তু খেতে সুস্বাদু। আর এমন পাপী ব্যক্তি যে কোরআন পাঠ করে, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে রায়হান জাতীয় লতার মতো, যার সুগন্ধ আছে কিন্তু খেতে বিস্বাদ। আর যে পাপী কোরআন একেবারেই পাঠ করে না, তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে ওই মাকাল ফলের মতো, যা খেতেও বিস্বাদ এবং যার কোনো সুগন্ধও নেই।’ সহিহ বোখারি : ৫০২০
