কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদ

'জো বাইডেনের সঙ্গে কখনো কথা বলেননি আরেফী'

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:১৫ পিএম

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ‘কথিত’উপদেষ্টা মিয়া জাহিদুল ইসলাম আরেফীকে কাশিমপুর কারাগারের 'কারা ফটকে' জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন–অর–রশীদ।

আজ মঙ্গলবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কারাগারে প্রবেশ করেন অতিরিক্ত কমিশনার হারুন। মিয়ান আরেফীকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বেলা ২টা ২০মিনিটের দিকে তিনি কারা ফটকে আসেন।

কারা ফটকে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'জিজ্ঞাসাবাদে মিয়ান আরেফী স্বীকার করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তিনি কখনো কথা বলেননি। তবে করোনা মহামারীর সময়ে যখন জুম মিটিং হয়েছিল তখন জো বাইডেনের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। এর পর তার আর কারও সাথে কথা হয়নি'।

ডিবি প্রধান বলেন, 'মিয়ান আরেফী জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে বলেছেন, লে. জেনারেল (অব.) চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী সাহেব তাকে শিখিয়ে দিয়ে যে অন্য দিকে ধাবিত করেছেন এটা তিনি বুঝতে পারেননি। তাকে ফাঁদে ফেলা হয়েছিল'। 'ফাঁদে পড়ে তিনি ২৮ তারিখে সংবাদ সম্মেলনে, যেভাবে শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল সে ভাবে বলেছেন। এখন তিনি অনুতপ্ত। এটা ঠিক করেননি'।

তিনি বলেন, 'মিয়ান আরেফীকে গুলশান অফিসে বিএনপির ব্রিফিংএ যাওয়ার জন্য সব কিছুর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন হাসান সারওয়ার্দী। সেখানে মিয়ান আরেফী যেন হাসান সারওয়ার্দীর নাম প্রকাশ করেন তাও শিখিয়ে দিয়েছেন। তাকে যেন হাইলাইটস করা হয়'।

তিনি বলেন, 'এর কারণ হিসেবে মিয়ান আরাফি পুলিশকে জানান, যদি বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় যায় তাহলে তাকে মন্ত্রী অথবা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হতে পারে'।

হারুন–অর–রশীদ বলেন, ২৮ অক্টোবর প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা, পুলিশ হাসপাতালে হামলা, পুলিশের গায়ে আঘাত এবং একজন পুলিশকে নৃশংসভাবে হত্যা করা, সাংবাদিকদের আহত করা আবার তাৎক্ষণিক সন্ধ্যার সময় সারওয়ার্দী সাহেব মিয়ান আরাফিকে নিয়ে বিএনপির অফিসে ঢোকা একটার সাথে আরেকটা সংযুক্ত। সে কারণেই আমরা বিএনপির অনেক নেতৃবৃন্দকে নিয়ে এসেছি, জিজ্ঞাসাবাদ করছি।

তিনি বলেন, হাসান সারওয়ার্দী সাহেবকেও জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তিনি অনেক কথা স্বীকার করেছেন। যে জায়গা গুলোতে উনি স্বীকার করছেন না সেটা আমরা তার কাছ থেকে জেনে নিলাম। আমরা যদি মনে করি যে ভবিষ্যতে আরও কোন তথ্য জানার প্রয়োজন আছে তাহলে আমরা আবারও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করব।

হারুন অর রশীদ বলেন, মিয়ান আরাফি আমেরিকায় থাকাকালীন সময়ে তাকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, শিমুল বিশ্বাসের নম্বর পাঠান সারওয়ার্দি এবং তাদের সাথে কথা বলতে বলেন। মিয়ান আরাফি দেশে আসার পর তাকে গাড়ি দিয়ে বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর বাসায় পাঠান হাসান সারওয়ার্দী।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার নামও প্রকাশ করেছেন বলে জানান ডিবি প্রধান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত