নিজ দল ছেড়ে অন্য কোনো দলে যোগদান করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। তবে বিএনপি যদি নির্বাচন করে তাহলে বিএনপির হয়েই নির্বাচন করবেন। আবার শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার কথাও বলেছেন। করেছেন নিজ দল বিএনপির সমালোচনা। গতকাল বুধবার বনানীর নিজ বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কাছে তার বহুমুখী চিন্তার কথা তুলে ধরেন। ‘বর্তমানে দলের কোনো রাজনৈতিক
কর্মকা-ের সঙ্গে জড়িত নই’ এমনটা জানিয়ে মেজর (অব.) হাফিজ বলেন, ‘আমি অন্য দল গঠন করতে যাচ্ছি, তথ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্য সঠিক নয়। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। গত কয়েক মাস সিএমএইচ ও সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নিয়েছি। আবারও সিঙ্গাপুরে যাব। শারীরিক অসুস্থতার কারণে রাজনীতি নিয়ে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। বিএনপির রাজনীতি থেকেও অনেকটা দূরে আছি। ৩১ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতি করছি। অনেক ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হচ্ছে। আমার নেত্রী খালেদা জিয়া।’ বিএনপি না ছাড়ার ঘোষণা দিলেও করেছেন নিজ দলের সমালোচনা। তিনি বলেছেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শের বাইরে যাওয়ার কারণে বিএনপি এত বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে। বর্তমানে বিএনপিতে সত্যি কথা বলার মতো লোক নেই, এটা বাস্তবতা। কিছু ভুল ধরিয়ে দেওয়া দরকার। সত্য কথা বলার লোক নেই বিএনপি চেয়ারপারসনের সামনে। তারা শুধু ইয়েস স্যার, ইয়েস স্যার করে চলে। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের যায় যায় অবস্থা, নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেওয়া উচিত ছিল। সেটা গ্রহণ না করে ফায়দা হয়নি। বিএনপির এই নির্বাচনে যাওয়া উচিত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপর নির্ভর না করে বিকল্প পথ খুঁজে বের করা উচিত।’ শিগগিরই রাজনীতি থেকে বিদায় নেব জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনে দাবি আদায় করতে জানতে হবে। রাজপথে স্লোগানে কিছু হবে না। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ খুব দুর্বল বিএনপির। কোনো সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।’
সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ‘২০২০ সালের ১৪ ডিসেম্বর দলের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। সে সময় শওকত মাহমুদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ ছিল না, এখনো নেই। অথচ আমাকে এসব অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলো, এসব মেনে নিতে পারি না। আমি সে সময় আমার বক্তব্য তুলে ধরি।’
‘পদ-পদবির জন্য রাজনীতি করিনি’ এমনটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২৩ বছর ধরে আমি বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান। স্থায়ী কমিটির দুজন ছাড়া সবাই আমার নিচে ছিলেন, এখন সবাই ওপরে উঠেছেন। খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। আগামী নির্বাচনে শারীরিক অসুস্থতার কারণে অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। এলাকার মানুষের সঙ্গে আলোচনা করে রাজনীতি থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত জানাব।’
‘আন্তর্জাতিক শক্তির মধ্যস্থতায় বিএনপির নির্বাচনে যাওয়া উচিত’ এমন মন্তব্য করে হাফিজ বলেন, ‘জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ শক্তি। সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ বের করতে হবে। রাজপথে শুধু স্লোগান দিলেই সরকারের কাছে দাবি আদায় সম্ভব হবে না। বিএনপির উচিত কীভাবে আন্তর্জাতিক শক্তির সহায়তা নিয়ে নির্বাচনে যাওয়া যায় সে ব্যবস্থা করা।’
তিনি দাবি করে বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনী প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে টহল দেবে, সক্রিয় থাকবে। ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিতে হবে। কারণ দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। তাই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। আশা করি সংঘাতের রাজনীতির অবসান হবে। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন।’
দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আট বছর ধরে দলের কোনো কাউন্সিল হয়নি। নেতা নির্বাচন হয়নি। এভাবে চলতে পারে না, দলের সংস্কার করুন। তিনি প্রশ্ন তোলেন কেন কমিটি বাণিজ্য হবে, ত্যাগীদের কেন অবমূল্যায়ন করা হবে? একনায়কত্ব চলছে। কেন কমিটি বাণিজ্য করে পকেট ভারী করতে হবে। সাংগঠনিক নেতা নির্বাচনে শৃঙ্খলা আনুন। ত্যাগী নেতারা কেন বঞ্চিত? গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় দল পরিচালনা করেন।’
অভিযোগ করে হাফিজ বলেন, ‘২০২০ সালে ১১টি অভিযোগ এনে আমাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়। চিঠির জবাব দেওয়ার পর আমি জানি না, সেই চিঠি গ্রহণ হয়েছে, না বাতিল হয়েছে। এমন আচরণ আমি ডিজার্ভ করি না। জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক হিসেবে এমন আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। তিন বছর হলো চিঠির জবাব পাইনি।’
