পছন্দের প্রার্থী নিয়োগ দিতে ছাত্রলীগ-প্রাধ্যক্ষ মুখোমুখি, জাবির হল অফিসে তালা

আপডেট : ১৫ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:৪১ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আলবেরুনী হলে তিনজন কর্মচারী নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রাধ্যক্ষের অফিসে তালা ঝুলিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বুধবার (১৫ নভেম্বর) সকাল ৮টার দিকে প্রাধ্যক্ষ অফিসে তালা দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় সেখানে শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রাধ্যক্ষ সিকদার মো. জুলকার নাইনের বাসার সামনেও অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তারা চারটি অভিযোগ করেন।  এ ঘটনার জেরে নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আলবেরুনী হলে পেশ ইমাম, অফিস সহকারী ও নিরাপত্তাকর্মী পদে মোট তিনজনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। একজন অফিস সহকারী পদের বিপরীতে ১৯ জন ও একজন নিরাপত্তাকর্মী পদের বিপরীতে ১৫ জন চাকুরিপ্রত্যাশী আবেদন করেন।

ছাত্রলীগ ও হল সূত্রে জানা গেছে, তিনটি পদের মধ্যে একটিতে ছাত্রলীগ ও দুটি পদে প্রাধ্যক্ষের পছন্দের প্রার্থী নিয়োগের কথা ছিল। সে অনুযায়ী অফিস সহকারী ও নিরাপত্তাকর্মী পদে প্রাধ্যক্ষের পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়োগের কথা ছিল। যে নিয়োগের বোর্ড বসার কথা ছিল আজ বুধবার। তবে এর মাঝে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগেভাগে এই দুই পদে নিজেদের প্রার্থীদের নিয়োগের কথা বলে ছাত্রলীগ। তবে এতে অস্বীকৃতি জানান প্রাধ্যক্ষ। যে কারণে হল অফিসে তালা ঝোলানোর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে আজকের নিয়োগ বোর্ড অনিবার্য কারণ দেখিয়ে স্থগিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, দুটি পদে নিয়োগ দিতে এরইমধ্যে প্রার্থীদের দুইজনের থেকে ৮ লাখ টাকা করে মোট ১৬ লাখ টাকার উৎকোচ নিয়েছে হল প্রশাসন। যে কারণে ছাত্রলীগের দাবি রাখতে পারেনি তারা। অপরদিকে পেশ ইমাম নিয়োগে পছন্দের প্রার্থীর সঙ্গে ১৭ লাখ টাকার চুক্তি করেছে ছাত্রলীগ।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৮ নভেম্বর পেশ ইমাম নিয়োগের বোর্ড হওয়ার কথা। রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আগেভাগে ছাত্রলীগের পছন্দের প্রার্থীর নিয়োগ দিতে চাপ দিতে শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি এনামুল হক এনাম, নাহিদ ও যুগ্ম সম্পাদক চিন্ময় সরকারের নেতৃত্বে হল অফিসে তালা দেয় হলের নেতাকর্মীরা।

তবে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করে শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ও আলবেরুনী হল ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক এনাম বলেন, ‘নিয়োগ এবং নিয়োগে লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। এ বিষয়ে প্রাধ্যক্ষ বা অন্য কারোর সাথে আমার কোনো কথা হয়নি।  আজ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর হলের সামনে জটলা দেখি। নিচে এসে জানতে পারি বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষের অফিসে তালা দিয়েছে। দাবিগুলো দীর্ঘদিনের। ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই দাবিগুলোর সাথে একমত।

এ ব্যাপারে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জুলকার নাইন বলেন, ‘নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চাইছিল অফিস সহকারী পদে যাকে নিয়োগ দেওয়া হবে সে তাদের পছন্দমতো হতে হবে। সবকিছুর তো একটা প্রক্রিয়া আছে। বললেই তো আর একজনকে নিয়োগ দেওয়া যায় না। টাকা নেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।’

তবে হল অফিসে তালা দেওয়ার সময় প্রাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে বেশকিছু অভিযোগ তুলেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ হলো বিভিন্ন কাগজ স্বাক্ষর করানোর জন্য প্রাধ্যক্ষকে নিয়মিত পাওয়া যায় না, মশার উপদ্রব কমানোর জন্য হলের পুকুর পরিষ্কারের কথা বারবার বলা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, হল নির্মাণকাজ অর্ধেক বাকি থাকলেও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, হলের সামনে রাস্তার সংস্কারকাজে গাফলতি।

তবে হলে নিয়মিত সময় না দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জুলকার নাইন বলেন, ‘পুকুর পরিষ্কারের বিষয়ে এরইমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। তারা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবে। হলের বাকি কাজগুলো নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলেছি।’

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে আটটার দিকে প্রাধ্যক্ষ অফিসে তালা দেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মী ও শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা চার দাবিতে প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক সিকদার মো. জুলকার নাইনের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত