অগ্রহায়ণে নবান্নের বার্তা উত্তরের ঘরে ঘরে

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০২৩, ১২:২১ পিএম

সোনামাখা রোদ আর চারদিকে ফসলের মৌ মৌ সুবাস ছড়াচ্ছে চারদিকে। অগ্রহায়ণ জানান দিচ্ছে নবান্ন উৎসবের। সোনালী স্বপ্নের ধান কেটে গোলায় তুলতে ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণী। নতুন চালের পিঠার আয়োজনে মুখর ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরের গ্রামাঞ্চলের ঘরে ঘরে। তবে ধানের দাম কিছুটা কম থাকায় কোথাও কোথাও সেই উৎসবে ভাটাও দেখা গেছে।

নতুন ধান কাটার সাথে সাথে কৃষকের গানে মুখরিত হয়ে উঠেছে গ্রাম বাংলার মাঠ-ঘাট আর প্রান্তর। হেমন্তের মাঝারীতে বাতাসে দোল খাচ্ছে সোনালী ধানের শীষ। এসেছে অগ্রহায়ণ। এই অগ্রহায়ণে জীবনানন্দ দাশের রূপসী বাংলার সেই চিরায়ত রূপ এখন ফুটে উঠেছে। চলছে ধান কাটা-মাড়াইয়ের ধুম। কৃষকের গোলা ভরে গেছে সোনালী ধানে। ঘরে ঘরে নবান্নের আয়োজন। বছরের এই সময়ে চারদিকে ছড়িয়ে পরে ফসলের ঘ্রাণ। নতুন ধানের চালের পিঠা-পায়েস তৈরির ধুম। আত্মীয়-প্রতিবেশীর নিমন্ত্রণে উৎসবের আমেজে মুখরিত বাংলার জনপদ। গাছিরা সংগ্রহ করে বিক্রি করছে খেজুরের রস।

খেজুরের রস সংগ্রহের জন্য গাছ কাটছেন এক গাছি।

সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের গৃহিণী মহসিনা বেগম বলেন, নতুন ধান ঘরে এসেছে। চাল থেকে আটা তৈরি শেষ। এখন দুই মেয়ে ও জামাইকে দাওয়াত দেব। নাতি-নাতনী আসবে তাদের নিয়ে পিঠা-পায়েস খাব। আনন্দ করব।

পাশের গ্রাম ছোট খোচাবাড়ির গৃহিণী হুসনেয়ারা জানায়, ভাপা পিঠা, তেল পিঠা, চিতই পিঠা, ঝাল পিঠাসহ রকমারি পিঠা ও খেজুরের রসের পায়ের আয়োজন হয় এই নবান্নে। তবে এবার ধানের বাজার দর কিছুটা নিম্নমুখী থাকায় সেই উৎসবে কোথাও কোথাও ভাটা দেখা গেছে।

উপজেলার সালন্দর গ্রামের কৃষক আব্দুল আলীম বলেন, এবার নতুন ধানের দাম একটু কম। তাই তেমন একটা খুশি নই। তারপরেও নতুন ধান ওঠার উপর আত্মীয় স্বজনরা আশা নিয়ে থাকে। ঘটা করে আয়োজন না হলেও ছোট পরিসরে নবান্ন উৎসব প্রতিবছরের মতো এবারও করতে হবে।

নবান্ন উৎসব আবহমান আমাদের গ্রাম বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য। এই উৎসবে যোগ হয় স্বজন আর প্রতিবেশীরা। শিশু থেকে বৃদ্ধ— চলে আনন্দ ভাগাভাগি। বাঙ্গালীর ১২ মাসের ১৩ পার্বণ টিকিয়ে রাখলে মানুষে মানুষে  ভ্রাতৃত্বের বজায় থাকবে। তাই কবি সাহিত্যিকরা উৎসব ধরে রাখার উপরও গুরুত্বারোপ করেন।

জেলার সাহিত্য ব্যক্তিত্ব প্রফেসর মনতোষ কুমার দে’র মতে অগ্রহায়ণ পরিপূর্ণতার মাস। আনন্দ উৎসবের মাস। মানুষ-মানুষের সম্পর্ক আরও মধুর করে তোলার মাস। তাই এই উৎসব গুলোকে টিকিয়ে রাখা প্রয়োজন কবে মনে করেন তিনি।  

কৃষি নির্ভর এই বাংলায় নানা কারণে উৎসব আমেজে কিছুটা ভাটা পড়লেও এখনো অনেকে ধরে রেখেছে 
শত বছরের ঐতিহ্যকে। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত