কোহলির রানের স্রোতে বাঁধ সাধবেন জাম্পা?

আপডেট : ১৯ নভেম্বর ২০২৩, ১১:০৮ এএম

বিশ্বকাপের মাঝেই ৩৬ বছরে পা দিয়েছেন বিরাট কোহলি। দেখতে দেখতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাটিয়ে দিয়েছেন পনেরটি বছর। কিন্তু কে বলবে, বয়সের ছাপ একটুখানিও পড়েছে তার পারফরম্যান্সে! চলতি বৈশ্বিক আসরে কোহলির ব্যাট তো হেসেই চলছে। তার রানের জোয়ারে এরই মধ্যে ভেসে গেছে পুরনো কত কীর্তি-রেকর্ড। কে জানে, ব্যাটকে তুলি বানিয়ে বাইশ গজে আরও কত রঙের ছবি আঁকবেন তিনি। তবে এখন তার মনোযোগ যে কেবলই আজকের ফাইনালে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে এসে বিশ্ব সেরার মুকুট জয়ের চেয়ে তো বড় প্রাপ্তি আর কিছু হতে পারে না। রাজার বেশে বিশ্বকাপের ইতি টানতে চাইবেন ‘কিং’ কোহলি।

‘কোহলি, কোহলি...’ স্লোগান ও গর্জনে আজ আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম প্রকম্পিত হবে। দেশের ইতিহাসের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজনকে উজ্জীবিত করার সবধরনের চেষ্টা করবে ভারতীয় সমর্থকরা। তবে অস্ট্রেলিয়া তো আর যা-তা দল নয়, রেকর্ড পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বলে কথা! কীভাবে স্বাগতিক সমর্থকদের চুপ করাতে হয় ভালোই জানা তাদের। দলটির অধিনায়ক প্যাট কামিন্স তো বলেই রেখেছেন, সেই লক্ষ্যেই মাঠে নামবেন তারা। এর জন্য ছন্দে থাকা কোহলির ব্যাটের জোয়ারে বাঁধ দিতে হবে তাদের। অজিদের অস্ত্রাগারে সেই হাতিয়ারও আছে, লেগ স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা। প্রতি চার ওয়ানডেতে একবার এই বোলারের শিকার হয়েছেন কোহলি, সবমিলিয়ে পাঁচবার। ওয়ানডেতে জাম্পার চেয়ে বেশিবার ভারতীয় তারকাকে ফেরাতে পেরেছেন টিম সাউদি (৭) ও রবি রামপাল (৬)। আহমেদাবাদে লড়াইয়ের ভেতরের লড়াইয়ে কে জেতেন, সেটাই এখন দেখার।

এবারের বিশ্বকাপে যেভাবে ছুটছেন কোহলি, তাকে থামানো কষ্টসাধ্য বেশ। তার সৌজন্যে ওয়ানডে বিশ্বকাপ প্রথমবার দেখতে পেয়েছে একজন ব্যাটসম্যানের একারই ৭০০ রান, ১০ ম্যাচে ৭১১! ছাড়িয়ে গেছেন তিনি ২০০৩ বিশ্বকাপে শচিন টেন্ডুলকারের করা ৬৭৩ রানের রেকর্ড। ওয়ানডেতে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির কীর্তিতেও শৈশবের নায়ককে টপকে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন কোহলি এই বিশ্বকাপেই। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে করা সেঞ্চুরিটি ছিল তার ৫০তম। কে ভেবেছিল, শচিনের ৪৯ সেঞ্চুরি ছাড়িয়ে যাবেন কেউ! এই সংস্করণে দ্রুততম আট, নয়, দশ, এগারো, বারো ও তের হাজার রানের কীর্তিও কোহলির। আরও কত রেকর্ডের পাতায় যে আছে তার নাম, হিসাব নেই।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপের লিগ পর্বেও উজ্জ্বল ছিল কোহলির ব্যাট। খেলেছিলেন ৮৫ রানের ইনিংস। এমনিতেও তাসমান সাগর পাড়ের দলটির বিপক্ষে রেকর্ড বেশ ভালো তার, ৪৮ ওয়ানডেতে প্রায় ৫৪ গড়ে করেছেন ২৩১৩ রান, সেঞ্চুরি ৮টি ও ফিফটি ১৩টি। তাই ফাইনালে কোহলির ব্যাটের দিকে তীর্থের কাকের মতো চেয়ে থাকবে আহমেদাবাদের ঠাসা গ্যালারি। আর অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য থাকবে কোহলিকে দ্রুত ফেরানোর। যদিও কামিন্স বলেছেন, ভারতীয় ব্যাটিং গ্রেটকে নিয়ে তাদের আলাদা কোনো পরিকল্পনা নেই। এটা হয়তো বিশ্বাসযোগ্য হবে না অনেকেরই। কারণ কোহলি যে অন্য ধাতুতে গড়া এক ব্যাটসম্যান। নিজের দিনে যিনি গুঁড়িয়ে দেন যেকোনো দলকে। বিশ্বকাপে কোহলির শেষটা রূপকথার হয় কি না, সেটা তোলা থাক সময়ের হাতে।

শুধু কোহলির বিপক্ষেই নয়, ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপের বিপক্ষে আজ জাম্পাকে জ্বলে উঠতে হবে আপন আলোয়। মেলে ধরতে হবে তার লেগ স্পিন জাদু, যেমনটি ধরেছিলেন লিগ পর্বের ম্যাচগুলোতে। প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর অস্ট্রেলিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর এই পথচলায় বড় ভূমিকা ছিল জাম্পার। শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিনি নিয়েছিলেন চারটি করে উইকেট। নিউজিল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের সঙ্গে তার শিকার ছিল তিনটি করে। উইকেট পেয়েছেন আফগানিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গেও। ১০ ম্যাচে তার ২২ উইকেট আসরে এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তাই ফাইনালে জাম্পার কাছ থেকে বাড়তি চাওয়া থাকবে অস্ট্রেলিয়ার।

সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নি®প্রভ ছিলেন জাম্পা। ৫৫ রান দিয়ে পাননি উইকেট। যা অস্ট্রেলিয়ার জন্য ভাবনার কারণ। তবে ভারতের বিপক্ষে খারাপ নয় ৩১ বছর বয়সী স্পিনারের পারফরম্যান্স। ২২ ওয়ানডেতে ওভারপ্রতি ছয়ের নিচে রান দিয়ে নিয়েছেন ৩৪ উইকেট। চার শিকার ধরেছেন দুইবার। দেড়মাস ধরে ভারতে আছেন, সঙ্গে আইপিএল খেলার অভিজ্ঞতা; তাই ভারতীয় কন্ডিশন সম্পর্কেও ভালো ধারণা আছে তার। ফাইনালে নিজেকে কতটা মেলে ধরতে পারেন তিনি, সেটা দেখার অপেক্ষা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত