‘ছেলেকে হারিয়েছি। তার ওপর স্ত্রীসহ আমার ভাইয়েরা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য দৌঁড়াচ্ছি। সন্ত্রাসীরা উল্টো আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছে। এখন ছেলে হত্যার বিচার চাইবো নাকি মামলার ভয়ে পালিয়ে থাকব, জানি না।’
আজ সোমবার বেলা ১২টার দিকে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা পরিষদের সামনে কিশোর মুহাম্মদ সোহেল হত্যার বিচার চেয়ে মানববন্ধনে এসব কথা বলছিলেন তার বাবা ওসমান গণি।
এলাকাবাসীর আয়োজনে এ মানববন্ধনে সোহেলের পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন।
মানববন্ধন চলাকালে সোহেলের বাবা ওসমান গণি জানান, দুই ভাই এবং এক বোনের মধ্যে সোহেল সবার বড় ছিল। দিনমজুরের কাজ করে সংসার ভালোই চলছিল। সোহেলও সাগরে মাছ ধরার কাজ করে পরিবারের ভরনপোষণে সহযোগিতা করেছে। এরই মধ্যে সন্ত্রাসীরা ছেলেকে গুলি করে হত্যা করে।
মানববন্ধনে সোহেলের মা শামশুন্নাহার বলেন, ক্ষমতার প্রভাব দেখাতে গিয়ে বিনা দোষে আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের চারদিন পেরিয়ে গেলেও প্রধান আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
তিনি আরো বলেন, ‘ঘটনার দিন সকালে ভাত চেয়েছিল আমার ছেলে সোহেল। বাড়িতে চাল না থাকায় তাকে ভাত দিতে পারিনি। আমি পাশের বাড়িতে চালের জন্য গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফিরে দেখি আহসান ও শফি আলম আমার ছেলেকে গুলি করে হত্যা করেছে। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।’
নিহতের চাচি শবনব ছিদ্দিকা বলেন, ‘আমার চোখের সামনে আহসান ও তার ভাই শফি আমার ভাসুরের ছেলে সোহেলের বুকে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করেছে। সন্ত্রাসী আহসানদের অত্যাচারে পুরো এলাকাবাসী অতিষ্ঠ। আমি খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাই।’
এর আগে ১৬ নভেম্বর সকালে কিশোর সোহেলকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নিহত কিশোরের মা শামশুন্নাহার বাদী হয়ে ১৭ জনের বিরুদ্ধে মহেশখালী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে মামলার ৯ নম্বর আসামি মো. হোসেন ও ১৫ নম্বর আসামি দিলদার বেগমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
