ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দী

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২৩, ০৯:৪৯ পিএম

কোটি ভারতীয় সমর্থকদের চোখের জলে ভাসিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বকাপ জিতল অস্ট্রেলিয়া। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে বিশ্বকাপের সেরা একাদশের ছড়াছড়ি। আইসিসির পাশাপাশি উইসডেন, গার্ডিয়ানসহ অনেকেই তাদের সেরা একাদশের তালিকা প্রকাশ করেছে। দেশ রূপান্তরের পাঠকদের জন্য একটি একাদশের তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে বিশ্বকাপের এবারের আসরের ব্যর্থ ১১ জনকে নিয়ে। যাদের কাছে প্রত্যাশা ছিল আকাশচুম্বি, কিন্তু তারা তার ছিটেফোটাও মেটাতে পারেননি।

বিশ্বকাপের ব্যর্থ একাদশে অধিনায়ক হিসেবে রাখা হয়েছে সাকিব আল হাসানকে। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের সঙ্গী হিসেবে আছেন আরও দুই বাংলাদেশি। চলুন তবে দেখে নেওয়া যাক বিশ্বকাপে ব্যর্থ একাদশের তালিকাটা।

টেম্বা বাভুমা : দক্ষিণ আফ্রিকা দলের ওপেনার ও অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা। বিশ্বকাপ শুরুর আগে যার ওয়ানডে ক্যারিয়ার ছিল ২৮ ম্যাচের। যেখানে প্রায় ৫৩ গড়ে ১ হাজার ৩৬৭ রান ছিল। সর্বোচ্চ ১৪৪। কিন্তু টুর্নামেন্টর ৮ ম্যাচে করেছেন ১৪৫ রান, সর্বোচ্চ মাত্র ৩৫। তাতে গড়টাও নেমে এসেছে ৪৫-এ। মাঠে পারফরম করতে না পারলে অপ্রত্যাশিত কাণ্ডে বারবারই শিরোনাম হয়েছে তার নাম।

তানজিদ হাসান তামিম : তামিম ইকবালের বিকল্প হিসেবে নেওয়া হয়েছিল জুনিয়র তামিমকে। তার ব্যাট থেকে রান বন্যার প্রত্যাশা ছিল সবার। আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার খুব একটা অভিজ্ঞতা তার নেই। তবে যুব বিশ্বকাপজয়ী এই ব্যাটসম্যানের আত্মবিশ্বাস নিয়ে কারোর কোনো সংশয় ছিল না। কিন্তু প্রত্যাশা মেটাতে পারেননি। ৯ ম্যাচ খেলে তার রান মাত্র ১৪৫। সর্বোচ্চ ৫১, গোটা টুর্নামেন্টে ফিফটি ঐ একটাই। ১৬.১১ গড়টাও বড্ড বেমানান।

নাজমুল হোসেন শান্ত : বিশ্বকাপের আগে গত এক বছর দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। হয়ে উঠেছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটিং ভরসা। টুর্নামেন্টের আগে আগে তাই তুলে দেওয়া হয় সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব। দুটি ম্যাচে দলকে নেতৃত্বও দিয়েছেন। কিন্তু ব্যাট হাতে তিনি হতাশ করেছেন সবাইকে। যদিও দুটি ম্যাচে ফিফটি করেছেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯০ রানের ম্যাচজেতানো ইনিংস খেলেছেন। করেছেন ২২২ রান। কিন্তু দুটি ম্যাচে তিনি রানের খাতাই খুলতে পারেননি, তিনটি ম্যাচে আউট হয়েছেন সিঙ্গেল ডিজিটে। যাকে টুর্নামেন্টের সেরা কয়েকজন রান সংগ্রাহকদের একজন ভাবা হচ্ছিল তাকে। অথচ তিনি কিনা এসবের ধারে কাছেও যেতে পারলেন না।

জস বাটলার : ইংলিশ অধিনায়ক বাটলারের কাছে প্রত্যাশা ছিল সবচেয়ে বেশি। কেননা তিনি যে টুর্নামেন্টের ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নের নেতা। শিরোপা ধরে রাখা ও নিজের ব্যাটিং শৈলিতে মাতিয়ে রাখবেন। এটাই ছিল সবার চাওয়া। কেননা আইপিএলে যিনি সেঞ্চুরিকে অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছেন। অথচ তিনি নিজে ব্যর্থ হয়েছেন, দলকেও ডুবিয়েছেন। ৯ ম্যাচে মাত্র ১৩৮ রান করেছেন, যেখানে নেই কোনো ফিফটি।

সাকিব আল হাসান : বিশ্বকাপের এবারের আসরে মোটাদাগে ব্যর্থ হয়েছেন সাকিব আল হাসান। তাই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারকে ব্যর্থদের অধিনায়ক করা হয়েছে। বিশ্বকাপে যাওয়ার দিন দেশ ছাড়ার আগে এক সাক্ষাৎকারে বিতর্কিত সব মন্তব্য আর অতি আত্মবিশ্বাসের গল্প শুনিয়ে গিয়েছিলেন। সেমিফাইনালের মুলা ঝুলিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ২ ম্যাচের বেশি জিততেই পারেনি দল। হেরেছে পুঁচকে নেদারল্যান্ডসের কাছেও। জয়ের জন্য মুখিয়ে থাকায় অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউসকে করেছেন টাইমড আউট। যা দিয়ে বাংলাদেশকেও করেছেন বিতর্কিত। যদিও ক্রিকেটিও আইনের বাইরে কিছু করেননি, তবে স্পিরিট অব গেম হয়েছেন প্রশ্নবিদ্ধ। টুর্নামেন্টে তিনি ৭ ম্যাচ খেলে করেছেন মাত্র ১৮৬ রান। উইকেট নিয়েছেন ৯টি।

সূর্যকুমার যাদব : টি-টোয়েন্টিতে তার ব্যাটিং আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। কতশত খেতাব পেয়েছেন ২২ গজে। কিন্তু ওয়ানডেতে এসে তিনি নামের মতো আলো ছড়াতে পারেননি। অবশ্য বেশিরভাগ ম্যাচেই তিনি ব্যাটিং পাননি। তবে সুযোগ ছিল ফাইনালের নায়ক হওয়ার। কিন্তু সেখানেও ব্যর্থ হয়েছেন। ৭ ম্যাচের ৭ ইনিংসে মাত্র ১০৬ রান। গড় মাত্র ১৭.৬৬।

ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা : উপমহাদেশে এক যুগ পর বিশ্বকাপ ফিরেছিল। শেষবার ২০১১ সালের আসরে টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটার হয়েছিলেন যুবরাজ সিং। এবার অনেকেই ধনাঞ্জয়াকে ভেবেছিলেন। কিন্তু তিনি ছিলেন ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দী। ব্যাট-বল কোনোভাবেই দ্যুতি ছড়াতে পারেননি এই লঙ্কান অলরাউন্ডার। ৮ ম্যাচের ৭ ইনিংসে ব্যাট করে মাত্র ১৪০ রান। ৮ ম্যাচে ২৫ ওভার বল ঘুরিয়ে ১৭৪ রান দিয়েও ছিলেন উইকেট শূন্য।

শাদাব খান : পাকিস্তানের হয়ে টুর্নামেন্টে ৬ ম্যাচের ৫ ইনিংসে করেছেন মাত্র ১২১ রান। আর বল হাতে নিতে পেরেছেন মাত্র ২ উইকেট। যেখানে তাকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া একজন ভাবা হয়েছিল, যার সুযোগ ছিল নিজের নামের প্রতি সুবিচার করার। কিন্তু পারেননি।

মার্ক উড : ইংলিশদের বোলিং ইউনিটের অন্যতম ভরসা উড। তাকে নিয়েও ছিল বিস্তর প্রত্যাশা। তবে এই পেসারও হতাশ করেছেন। ৭ ম্যাচে ৫৪ ওভার বল ঘুরিয়ে উইকেট মাত্র ৬টি। খরচ করেছেন ৩৪৯ রান।

হারিস রউফ : পাকিস্তান যেন নব্বইয়ের দশকের সেরা সব পেসারদের ফিরে পেয়েছিল। শাহিন আফ্রিদি, নাসিম শাহ ও হারিসদের ঘিরে প্রত্যাশা বেড়েছি। কিন্তু টুর্নামেন্টে সব পাকিস্তানি সমর্থকের স্বপ্নে জল ঢেলে দিয়েছেন হারিস। ৯ ম্যাচে তিনি ৭৯ ওভার বল ঘুরিয়ে খরচ করেছেন ৫৩৩ রান। যদিও নিয়েছেন ১৬টি উইকেট। তবে সেগুলোর বেশিরভাগই গুরুত্বহীন সময়ে।

লুঙ্গি এনগিডি : দক্ষিণ আফ্রিকার পেস ইউনিটের অন্যতম ভরসা তিনি। তাকে ঘিরেও বড় প্রত্যাশা ছিল। তবে ৮ ম্যাচে ৬০ ওভার বল করেও তিনি ১০ উইকেট নিয়েছেন। তার সর্বোচ্চ বোলিং ফিগার ২৬ রান খরচায় ২ উইকেট। অথচ তাকে ঘিরে আরও বেশি প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু পারেননি তিনি সেটা মেটাতে।

 দ্বাদশ, ম্যাক্স ও ডাউড : এই ডাচ ওপেনার আছেন দ্বাদশ ক্রিকেটার হিসেবে। টুর্নামেন্টের সবগুলো ম্যাচ খেললেও করেছেন মাত্র ১৩৮ রান। নেই কোনো ফিফটি। তারও সুযোগ ছিল লম্বা ইনিংস খেলার। সেটা তো পানইনি, সঙ্গে কোনো অবদানও রাখতে পারেননি। তাই তিনিও আছেন ব্যর্থদের তালিকায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত