পাবনার ঈশ্বরদীতে যুবলীগ নেতাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন ও জোরপূর্বক স্বীকোরোক্তি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) নুরুজ্জামান বিশ্বাসের শ্যালক মিলন চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী রবিউল ইসলাম রবি (৫০) ঈশ্বরদী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাবেক সভাপতি। নির্যাতনের পর ঘটনা ভিন্নখাতে নিতে রবিউলকে আগ্নেয়াস্ত্রসহ পুলিশে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ঈশ্বরদী পৌর এলাকার সাঁড়া গোপালপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী রবিউলের স্ত্রী রোজিনা খাতুন জানান, মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে সাঁড়া গোপালপুর নিজ বাড়ি থেকে রবিউলকে মিলন চৌধুরীর ছোট ভাই দীপ চৌধুরীর সাথে কয়েকটি মোটরসাইকেলে আসা একদল যুবক ডেকে নিয়ে যায়। রাত দেড়টার দিকে তিনি প্রতিবেশীদের কাছে খবর পান মিলন চৌধুরী ও তার লোকজন রবিউলকে পার্শ্ববর্তী রেল লাইনে ফেলে রেখেছে। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন তাকে অস্ত্রসহ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
রোজিনা খাতুন জানান, রবিউল দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে পাবনা-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ঈশ্বরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টুর অনুসারী। বর্তমান সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান বিশ্বাসের অনুসারী মিলন চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে রবিউলকে মিন্টুর পক্ষ ত্যাগ করে তার সাথে কাজ করার জন্য চাপ দিয়ে আসছে। গতকাল রাতে তাকে অফিসে নিয়ে জোরপূর্বক ছবি তুলে রবিউল মিলন চৌধুরীর সাথে যোগ দিয়েছেন বলে ফেসবুকে পোস্টও দেয় মিলনের অনুসারীরা। রবিউলের প্রতিবাদ করায় তাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধোর করে রেললাইনে ফেলে হত্যার ভয় দেখিয়ে স্বীকোরোক্তি আদায় করে ফেসবুকে লাইভ করে তারা।
এদিকে রবিউলকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রবিউলকে হাত-পা বেঁধে রেল লাইনে ফেলে পেটাচ্ছেন কয়েকজন যুবক। মিলন চৌধুরী রবিউলকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তাকে নানা প্রশ্ন করছেন। জঙ্গলে ওঁত পেতে থাকা রবিউলের কাছে একটি আগ্নেয়াস্ত্র গুলিসহ পাওয়া গেছে জানিয়ে আবুল কালাম আজাদ মিন্টু ও জুবায়ের মিলন ও দীপকে হত্যার জন্য পাঠিয়েছেন কি না জানতে চাইছেন। এক পর্যায়ে রবিউল তা স্বীকার করলে মিলন বলেন, মিন্টু ও জুবায়েরের সাথে বিএনপির কয়েকজন কর্মী আওয়ামী লীগ শেষ করতে তাকে পাঠিয়েছেন। এ সময় রবিউল আওয়ামী লীগকে নির্যাতন করে শেষ করা যায় না বলে প্রতিবাদ জানালে আবারো মারের ভয় দেখান মিলন ।
তবে আগ্নোয়াস্ত্রসহ রবিউলকে পুলিশে দেওয়ার ঘটনাকে পরিকল্পিত নাটক বলে দাবি করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ মিন্টু। তিনি বলেন, মিলন চৌধুরীর কোনো দলীয় পদ নেই। রবিউল আওয়ামী লীগের ত্যাগী কর্মী, সাবেক যুবলীগ নেতা। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ নেই। নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন সামনে রেখে আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতেই আমার ও আমার অনুসারী জুবায়ের বিশ্বাসের নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। আমি নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সাথে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি।
এদিকে রবিউলকে মারপিটের কথা স্বীকার করলেও তুলে আনার কথা অসত্য বলে দাবি মিলন চৌধুরীর। তিনি বলেন, রবিউল আগ্নোয়াস্ত্র নিয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জঙ্গলে লুকিয়ে ছিল। সে গুলি ভরা বন্দুকসহ হাতেনাতে ধরা পড়েছে। সে মিন্টু ও জুবায়েরের নির্দেশে এসেছে বলে স্বীকার করেছে। ঘটনার উত্তেজনায় সমর্থকরা রবিউলকে মারধর করে অস্ত্রসহ পুলিশে সোপর্দ করেছে।
পাবনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য নুরুজ্জামান বিশ্বাস বলেন, মিলন আমার দূর সম্পর্কের শ্যালক। তাদের একটি ঝামেলা হয়েছে বলে শুনেছি। আমি ঢাকায় আছি। ঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, রবিউল থানায় আটক রয়েছেন। তবে সোপর্দকারীদের বর্ণনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা কি তা খতিয়ে দেখে দোষী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
