বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং পয়েন্ট চালু করল ডেসকো

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:৩০ এএম

বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতি বিবেচনায় কার্বনদূষণ কমাতে বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের জন্য চার্জিং পয়েন্ট চালু করেছে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিডেট (ডেসকো)। গতকাল শনিবার রাজধানীর মাটিকাটা এলাকায় অবস্থিত সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনে এ সেবার উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. হাবিবুর রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে বৈদ্যুতিক চার্জিং স্টেশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে বায়ুদূষণ কমানোর ক্ষেত্রেও এটি সহায়ক হবে।’ ‘আমরা পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে এখন পর্যন্ত ৩টি স্টেশন চালু করেছি। আরও ৩টি করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফিলিং স্টেশনের মালিকদের বলব, আপনারা এগিয়ে আসুন। দূষণমুক্ত নগরী গড়তে বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের ব্যবহার বাড়াতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার বিকল্প নেই।’ যোগ করেন তিনি। ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. কাওসার আমীর আলী বলেন, ‘বৈশ্বিক জলবায়ুর কথা চিন্তা করে সারা বিশ্বে বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের ব্যবহার বাড়ছে। আমাদেরও কার্বন নিঃসরণ কমাতে হবে। দেশে যে পরিমাণ অনিবন্ধিত ইজিবাইক চলছে, সেগুলোকে বিদ্যুৎচালিত যানের মেকানিজমে কনভার্ট করা হলে অপচয় রোধের পাশাপাশি শৃঙ্খলা আসবে।’

অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃ পক্ষের চেয়ারম্যান মুনীরা সুলতানা, বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. নিজাম উদ্দিন, সুমাত্রা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল আকতার কামাল প্রমুখ। দেশজুড়ে অসংখ্য ইজিবাইক চলছে, যেগুলোর ব্যাটারি বিদ্যুতে রিচার্জ করতে হয়। এর বাইরে অল্প কিছুসংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল করছে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে। দিন দিন এই সংখ্যা বাড়ছে। তবে চার্জিংয়ের সুযোগ সহজ ও ব্যাপক হারে করা গেলে বৈদ্যুতিক গাড়ির সংখ্যা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে পেট্রোলচালিত যানবাহনে প্রতি কিলোমিটারে জ্বালানি খরচ প্রায় সাড়ে ৫ টাকা। অন্যদিকে বৈদ্যুতিক গাড়িতে এই খরচ ১ টাকা ২০ পয়সার মতো। বিদ্যুৎচালিত যানবাহনের দক্ষতা বেশি হওয়ায় এর ব্যয় কম। তা ছাড়া এটি পরিবেশবান্ধব। পরিবেশ ও ব্যয়ের বিষয়টি চিন্তা করেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও কয়েক বছর ধরে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্বজুড়ে বৈদ্যুতিক যানবাহন ব্যবহার বৃদ্ধির যে ধারা তাতে ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে বিশ্বের বেশিরভাগ গাড়িই বিদ্যুৎচালিত হবে বলে ধারণা করছেন আন্তর্জাতিক গবেষক ও বিশ্লেষকরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত