কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার সর্বত্র আমন ধানের জমিতে পাতা মোড়ানো পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কীটনাশক ছিটিয়েও কোনো কাজ না হওয়ায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, পোকায় আক্রান্ত এলাকাগুলোতে ৭-৮ জন করে উপসহকারী কৃষি অফিসার পাঠানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউপির মলংচর, গন্ডামারা, বাঁকিহাটি, ঢালুয়া ইউপির ঢালুয়া, চৌকুড়ী, সিজিয়ারা, মৌকরা ইউপির, গোমকোট, হাসানপুর, মড়েশ্বর, বিরলি, রায়কোট দক্ষিণ ইউপির তুলাতলি, ঝাটিয়াপাড়া, মনতলী, রায়কোট উত্তর ইউপির মাহিনী, রায়কোট ও বাংগড্ডা ইউপির বাংগড্ডা, গান্দাচী গ্রামসহ পুরো উপজেলার আমন ধানের মাঠগুলো পাতা মোড়ানো ও পাতা ছিদ্রকারী পোকায় আক্রান্ত।
কৃষকরা জানান, এ পোকা ধানগাছের অগ্রভাগের সবুজ পাতা খেয়ে ২-৩ দিনের মধ্যে পুরো পাতাকে ছিদ্র করে ফেলে। এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো জমি আক্রান্ত হয়। অপরদিকে, পাতা মোড়ানো পোকা ধানগাছের পাতায় বাসা বাঁধে। এতে কীটনাশক ব্যবহার করলেও পোকাগুলো পাতার আড়ালে থাকায় এগুলোর তেমন ক্ষতি হয় না। তাদের গায়ে কোনো ওষুধ লাগে না। এরা পাতার রস চুষে খায়। কয়েকদিনের মধ্যে ধানগাছ নেতিয়ে পড়ে।
বদরপুর গ্রামের কৃষক আবদুল মালেক বলেন, ‘এলাকার উপসহকারী কৃষি অফিসার কে আমি চিনি না। তাকে কখনো হাসানপুরের আমন ধানের মাঠে দেখিনি। মাত্র ধানের থোড় বের হচ্ছে। এ মুহূর্তে পোকা সব তছনছ করে ফেলছে। এর প্রতিকার না করা হলে আমাদের মতো কৃষকের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, ‘চলতি আমন মৌসুমে উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। এখন জমিতে পাতা মোড়ানো পোকা দেখা দিয়েছে। আমন ধানের পাতা বেশি হলে এ পোকা আক্রমণ করে থাকে। আমরা প্রতিটি আক্রান্ত ধানের মাঠে ৬-৮ জন করে উপসহকারী কৃষি অফিসার পাঠিয়ে কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি। কীটনাশক ব্যবহারের ফলে অল্প কয়েক দিনে পোকার আক্রমণ কমে যাবে। ধান গাছগুলো ভালো হয়ে যাবে। এ ছাড়া জমিতে আলোর ফাঁদ সৃষ্টি করেও এ পোকার আক্রমণ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।’
এ বিষয় কুমিল্লা জেলা কৃষি অধিদপ্তরের উপপরিচালক আইউব মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কোন কোন এলাকায় এ পোকার আক্রমণ হয়েছে তার খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
