বিএনপি নির্বাচনে এলে পুনঃতফসিল হতে পারে: সিইসি

আপডেট : ২৭ নভেম্বর ২০২৩, ০৬:৩৩ এএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আসবে এমন আশা এখনো করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে তাহলে তা হবে আমাদের সবার জন্য, জাতির জন্য সৌভাগ্যের। বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে তাহলে তফসিল রিশিডিউল করা (পুনঃতফসিল) হতে পারে।’

গতকাল রবিবার নির্বাচন কমিশনের মিডিয়া সেন্টারে অনানুষ্ঠানিক ব্রিফিংকালে এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি এসব কথা বলেন।

বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তাহলে নির্বাচনটা তৃপ্তিদায়ক হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘আমরা বিএনপিকে আহ্বান করেছি। একবার নয়, দুবার নয়, বারবার, ১০ বার বলেছি। আমি আগেও বলেছিলাম সময় ফুরিয়ে যায়নি। এখনো বলা হচ্ছে সময় ফুরিয়ে যায়নি। এখনো সুযোগ আছে। আমরা সব সময় সংলাপ, সমঝোতার কথা বলেছি।’

সিইসি বলেন, ‘আমরা বারবার উৎসবমুখর ও অনুকূল পরিবেশের কথা বলেছি। সবার মধ্যে যদি সমঝোতা হয় তাহলে নির্বাচনের পরিবেশ আমাদের জন্য আরও অনুকূল হয়ে ওঠে। আমরা আমাদের দিক থেকে কোনো পরিবর্তন করিনি। আমরা এখনো আশা করি, হয়তোবা ওরা (বিএনপি) আসতেও পারে।’

জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রচার-প্রচারণা ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনের জন্য ২০০৮ সালে প্রণীত আচরণবিধিতে মূল বিষয় ও লক্ষ্য উল্লেখ আছে। মনোনীতরা প্রার্থী, সম্ভাব্য প্রার্থী তারা কেউ প্রার্থী নন। মনোনীত বা সম্ভাব্য প্রার্থীরা যখন নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিল করবেন এবং রিটার্নিং অফিসার যাচাই-বাছাই করে চূড়ান্ত করবেন, তখনই প্রার্থী হবেন। চূড়ান্তভাবে যোগ্য প্রার্থীদের তালিকা ১৮ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হবে। সেদিন থেকে একজন প্রার্থী নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার সুযোগ পাবেন।

এ বিষয়ে সিইসি আরও বলেন, ‘১৮ ডিসেম্বরের আগে যে প্রচার-প্রচারণা চলছে, আমাদের জন্য তা নির্বাচনী প্রচারণা নয়। এখন কোনো রাজনৈতিক দল লাঙ্গল, নৌকা কিংবা গরু নিয়ে প্রচারণা চালালেও তাতে কোনো বাধা নেই। যখন রিটার্নিং অফিসার চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা করবেন, তখন আমরা তাদের নিয়ন্ত্রণ করব। আমরা তখন দেখব তারা নির্বাচনী কোনো আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন কি না।’

প্রশাসনের রদবদল প্রয়োজন আছে বলে মনে করেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, আমি জানি না। আমরা প্রয়োজন মনে করি, কী করি না, এমন প্রশ্ন আমি নেব না। আমরা আমাদের নির্বাচনের স্বার্থে যেটাকে ভালো মনে করব সেটা করব, যেটা আমাদের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে সেভাবে করব। এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে আমরা কিছু করব না।’

সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচন এলেই সেনাবাহিনী (সশস্ত্র বাহিনী) প্রসঙ্গ আসে। সেনাবাহিনী নিয়ে আমাদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কিছু নেই। আমরা সেনাবাহিনী নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছি। প্রয়োজন হলে আমরা একেবারে শেষপর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। যদি প্রয়োজন মনে করি, চাইলে তারা (সরকার) আমাদের দেবে। এ নিয়ে কোনো সংশয় বোধ করার কারণ নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত