যশোর যুবদলের কারাবন্দি এক নেতাকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হৃদরোগে আক্রান্ত হলে কারাগার থেকে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে যুবদল নেতাকে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, খাওয়ার সময়ও তার হাতকড়া খোলা হয়নি। স্বজনদের সঙ্গেও দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
ওই যুবদল নেতার নাম আমিনুর রহমান মধু। তিনি যশোর জেলা যুবদলের সহসভাপতি। একই সঙ্গে সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের আমদাবাদ ডিগ্রি কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাহিত্য ও প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক। একই সংগঠনের যশোর জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট যশোর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। গত ২ নভেম্বর বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডান্ডাবেড়ি পরা তার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর থেকেই যুবদল নেতা আমিনুরের সঙ্গে এমন আচরণের সমালোচনা চলছে। বিএনপি নেতারা একে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘন’ বলেও অভিহিত করেছেন।
জানা গেছে, আটকের পর ১২ নভেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে থাকা অবস্থায় আমিনুর হৃদরোগে আক্রান্ত হন। কারাগার থেকে তার দুই পায়ে ডান্ডাবেড়ি ও হাতকড়া লাগিয়ে প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ওই রাতেই তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তর করা হয়। পরদিন ১৩ নভেম্বর কারা কর্র্তৃপক্ষের মাধ্যমে আমিনুরকে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। দুই পায়ে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে ও ডান হাতে হাতকড়া লাগানো অবস্থায় হাসপাতালের মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয় তাকে।
পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, আজ বুধবার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে আমিনুরের এনজিওগ্রাম করার কথা বলেছিল হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। এজন্য তাকে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রাখতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তার আগেই গত শনিবার রাতে কারা কর্র্তৃপক্ষ তাকে জোর করে হাসপাতাল থেকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠায়। এরপর গতকাল দুপুরের পর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয় আমিনুরকে।
এ প্রসঙ্গে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক (খুলনা বিভাগ) অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘আমিনুর রহমান মধুকে জামিন না দেওয়া ও চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা মানবাধিকারের লঙ্ঘন।’
বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতির যশোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইবাদত খান বলেন, ‘বাংলাদেশে আইন কাগজ-কলমে আছে, বাস্তবে নেই। আমিনুর রহমান মধু যে রোগে অসুস্থ তাতে যেকোনো সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তার ওপর একজন শিক্ষককে এমন পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে রাখা দেশ ও জাতির জন্য খুবই লজ্জাজনক।’
এ বিষয়ে যশোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এমএ গফুর বলেন, ‘বিষয়টা খুবই অমানবিক। একজন হৃদরোগ আক্রান্ত ব্যক্তিকে এভাবে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে রেখে চিকিৎসা দেওয়া মোটেও সমীচীন নয়। আইন-আদালত মানুষের কল্যাণের জন্য, অকল্যাণের জন্য নয়।’
আমিনুর রহমান মধুর স্ত্রী নাহিদা সুলতানা লাবণী বলেন, ‘পরিবারের অভিভাবক গুরুতর অসুস্থ হয়ে জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। আমি আমার দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পর্যন্ত দেওয়া হচ্ছে না। তার ওপর কত অমানবিকভাবে দুই পায়ে ডান্ডাবেড়ি ও হাতে হাতকড়া পরিয়ে রেখেছে।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. শরিফুল আলম বলেন, ‘কোনো আসামিকে কারাগারের বাইরে নেওয়া হলে নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়ম অনুযায়ী ডান্ডাবেড়ি পরানো হয়। অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’
