ব্যাট হাতে মুমিনুল হককে অনেকেই স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের সঙ্গে তুলনা করেন। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে ব্যাটিংয়ের দ্যুতিতে গড়টাও ছিল ৭৫। এই ব্যাটসম্যান কিন্তু বল হাতেও দারুণ কার্যকরি। জাতীয় দলের দরজা তো তার খুলেছিল অলরাউন্ডার বিবেচনাতেই। যদিও সেখানে খুব একটা মেলে ধরতে পারেননি। তবে নিউজিল্যান্ডকে পেলেই বল হাতে জ্বলে উঠেন তিনি। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে এখন পর্যন্ত ৮ উইকেটের পাঁচটিই কিউইদের বিরুদ্ধে।
আজ সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে উইকেটের জন্য হাঁসফাস করছিল বাংলাদেশ। ঠিক সেই সময় মুমিনুলকে বোলিংয়ে আনেন অধিনায়ক শান্ত। এসেই শিকার করেন গ্লেন ফিলিপসের উইকেট। ক্রিকেটের কুলিন সংস্করণ বলে দর্শক খড়ায় ভোগা স্টেডিয়ামের নিরুত্তাপ গ্যালারিতে হঠাৎ নেমে আসে উত্তাপ। ২৩ মাস পর যে উইকেটের দেখা পেলেন তিনি। তার নিজের উচ্ছ্বাসটাও ছিল বাধ ভাঙা।
টেস্টে মুমিনুলের অভিষেক হয়েছিল এক দশক আগে গলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। সেদিন বল হাতে মাত্র ২ ওভার বল ঘুরিয়েছিলেন। তবে পাননি কোনো উইকেটের দেখা। অলরাউন্ডার হয়ে দলে ঢুকলেও পরে বনে গেছেন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান। উইকেটের দেখা পেতে তিনি সময় নিয়েছেন ৪ টেস্টে। নিজের চতুর্থ টেস্টে এসে প্রথম উইকেটের দেখা পান। সেটা তার ঘরের মাঠ চট্টগ্রামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই।
কক্সবাজারের ছেলে মুমিনুলের ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেটটি কখনও ভুলার নয়। সেদিন টাইগারদের গলা কাঁটা হয়ে গিয়েছিলেন কেইন উইলিয়ামসন ও ব্রেডলি জন ওয়াটলিং। কেইনকে সাকিব ফিরিয়ে দিলেও ওয়াটলিংকে থামানো যাচ্ছিল না। তৎকালিন অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম তখন পার্টটাইম বোলার হিসেবে নিয়ে আসেন মুমিনুলকে। তার স্পিন ফাঁদে পা দিয়ে স্টাম্পিংয়ের শিকার হন এই কিউই ব্যাটসম্যান। ১০৩ রানের ইনিংস থামিয়েছিলেন টাইগারদের এই লিটল মাস্টার।
২০১৩ সালের অক্টোবরে প্রথম উইকেট প্রাপ্তির পর কেটে যায় চার বছর। মাঝে মুমিনুল আর উইকেটের দেখা পাননি। ২০১৭ সালে বাংলাদেশ যায় দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে। সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে মুমিনুল পেয়ে যান তার ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ফিগারটা। ৬ ওভারে ২৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট শিকার করেন তিনি। সেদিন তুলে নেন ফাফ দু প্লেসি, টেম্বা বাভুমা ও কুইন্টন ডি ককের উইকেট।
সেদিনের পর আরও ৪ উইকেট শিকার করেছেন সৌরভ নামে পরিচিত এই ক্রিকেটার। যার একটি আজ নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। বাকি তিনটিও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে। গত বছরের জানুয়ারিতে ক্রাইস্টচার্চে টেস্টের প্রথম ইনিংসে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২ উইকেট শিকার করেন তিনি। তার স্পিন জালে সেদিন ধরা পড়েছিলেন ডেভন কনওয়ে ও হেনরি নিকলস। দুজনেই আজ সেরা ব্যাটসম্যান দলটির।
দ্বিতীয় টেস্টেও নেন এক উইকেট। সেদিন আবার শিকার করেছিলেন ২৫২ রানে অপরাজিত থাকা টম লাথামের উইকেট।
ক্যারিয়ারে তার বোলিং পরিসংখ্যানটা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষেই উজ্জ্বল। ব্ল্যাকক্যাপসরা যেন তার প্রিয় প্রতিপক্ষ। যে আট ব্যাটসম্যানের উইকেট তিনি শিকার করেছেন সবাই সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান।
