মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটা ছিল শুধুই বাংলাদেশের। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সেঞ্চুরি আর মুমিনুল হকের লড়াকু ব্যাটিংয়ে দিন শেষে চালকের আসনে টাইগাররা। তবে সারাদিন দারুণ ব্যাটিং করেও আক্ষেপ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মুমিনুলকে। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ‘নার্ভাস নাইন্টিজ’-এর শিকার হয়ে ৯১ রানে আউট হয়েছেন তিনি। সেঞ্চুরি না পাওয়ার সেই আক্ষেপ কি তাকে পোড়াচ্ছে? দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে এই প্রশ্নের জবাবে এক চিলতে হাসি আর রসবোধে পুরো কক্ষ মাতিয়ে দিলেন বাংলাদেশের সাবেক এই অধিনায়ক।
সেঞ্চুরি না পাওয়ায় নিজের জন্য কতটা খারাপ লাগছে তা বলতে গিয়ে মুমিনুল টেনে আনলেন তার সহধর্মিণীকে। মজার ছলে তিনি বলেন, "না আক্ষেপ হয়নি। এতদিন হয়নি, আজ একটু হয়েছে। তাও বউয়ের কারণে। বউ হয়ত একটু গালি দিবে। এটাই আরকি!"
মুমিনুলের এমন রসিকতায় হাসির রোল পড়ে যায় সংবাদ সম্মেলনে। তবে রসিকতার আড়ালে যে কিছুটা বিষণ্ণতা ছিল, তাও স্বীকার করে নিলেন। সাজঘরে ফেরার পরের অনুভূতি নিয়ে তিনি বলেন, "আসার পর দুই-তিন মিনিট একটু খারাপ লাগছিল আরকি। তবে সত্যি বলতে, একশর চেয়ে আমার কাছে নিয়মিত রান করা বেশি ইম্পর্ট্যান্ট।"
টানা চার ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি করলেও কেন সেঞ্চুরি ধরা দিচ্ছে না, সেই গোলকধাঁধায় মুমিনুল নিজেও। এর পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে তিনি জানান, "এটা মানসিক হতে পারে। এখনও ঠিক ধরতে পারিনি, তবে ইনশাআল্লাহ ধরে ফেলব। আমি যখন ব্যাটিংয়ে নামি, একশ করব—এমন চিন্তা মাথায় থাকে না। আমি ভাবি ৪-৫ সেশন ব্যাট করতে হবে। হয়তো এখন থেকে সেঞ্চুরি নিয়ে আরেকটু ভাবতে হবে।"
অনেকে সেঞ্চুরির জন্য বাড়তি মোটিভেশনের কথা বললেও মুমিনুল হাঁটছেন ভিন্ন পথে। সেঞ্চুরি করার তীব্র ইচ্ছা থাকলেও তিনি প্রথাগত ‘মোটিভেশন’ তত্ত্বে বিশ্বাসী নন। তার সাফ কথা, "সেঞ্চুরি কে না চায়? তবে মোটিভেশন শুনতে ভালো লাগে না। আমি এতদিন টেস্ট খেলেছি, রান কীভাবে করতে হয় তা মোটামুটি জানা আছে। খুব বেশি চিন্তাভাবনা না করে নিয়মমাফিক খেললেই রান আসবে।"
প্রথম দিনে বাংলাদেশ ৮৫ ওভারে তুলল ৪ উইকেটে ৩০১ রান
এই প্রথম নার্ভাস বাংলাদেশের সর্বাধিক সেঞ্চুরির মালিক