কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আব্দুর রশিদ ভূঁইয়া (৫০) নামের এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে আদালতে মামলা করেছে তারই গৃহকর্মী। যদিও মামলাটি সাজানো বলে দাবি করছেন অভিযুক্ত ওই চেয়ারম্যান।
জানা গেছে, উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউপির এক নারী ওই ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদের গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। চলতি বছরের আগস্ট মাসে তিনি অন্তঃসত্ত্বা বলে জানাজানি হয়। পরে স্থানীয় লোকজনের জিজ্ঞাবাদে ওই গৃহকর্মী জানায়, মুখোশ পরিহিত ৩ ব্যক্তি তাকে মৎস্য খামারের নিয়ে যায়। সেখানে তাদের মধ্যে একজন তাকে ধর্ষণ করায় তিনি অন্তঃসত্ত্বা হন। এর কয়েকদিন পর গত ৯ আগস্ট তার দুলাভাই নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল-১ একটি ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন। বিভিন্ন পর্যালোচনা করে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। পরে সেখান থেকে পালিয়ে যান ওই গৃহকর্মী।
এরপর গত ২১ অক্টোবর একটি পুত্র সন্তান প্রসব করেন তিনি। সবশেষ ৩১ আগস্ট একই আদালতে বক্সগঞ্জ ইউপি আব্দুর রশিদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টার অভিযোগে আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি নাঙ্গলকোট থানাকে এফআইআর করার নির্দেশ দেন। ৪ নভেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত করেন।
এ বিষয়ে শুভপুর গ্রামের জহিরুল ইসলাম ভূঁইয়া, ইউপি সদস্য জসীম উদ্দিন ও ইউপি সদস্য আফজাল বলেন, ওই নারী বলেন— মাস্ক পরা তিন ব্যক্তি তাকে একটি মৎস্য খামারে নিয়ে যায়। এর মধ্যে একজন তাকে ধর্ষণ করে। তিনি কাউকে চিনতে পারেনি। এ ঘটনার কিছুদিন পর সে জানায়, চেয়ারম্যানের ড্রাইভার এ কাজ করছে। এর কয়েকদিন পর শুনি তার বোন জামাই নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছেন ওই নারী। এর ২ মাস পর শুনি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একই ঘটনায় ধর্ষণের মামলা করেছে। তারা বলেন, ‘আমাদের চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ ভূঁইয়া ষড়যন্ত্রের শিকার।’
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ ভূঁইয়া বলেন, আমি স্বতন্ত্র নির্বাচন করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। আমার প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকা মার্কার প্রার্থী শিপন ভূঁইয়া পরাজিত হয়। তিনি আমার বিরুদ্ধে যড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ওই মেয়েটি আগে শিপন ভূঁইয়ার বাড়ীতে কাজ করত। পরে আমার বাড়িতে কাজ নেয়। ধর্ষণের ঘটনায় মেয়েটি অনেকের নাম বলেছে। এ ঘটনার তার বোনের জামাইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করে। তার দুই মাস পর একই ঘটনায় আমার বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করে। আমার দাবি প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করুক।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাড়ীতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। তাই বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে শিপন ভূঁইয়া মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বাড়ীতে গিয়ে জানা যায়, তিনি বিদেশে রয়েছেন। তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নাঙ্গলকোট থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, শুনেছি প্রথমে ওই নারী তার বড় বোনের জামাইয়ের বিরুদ্ধে আদালতে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত ওই মামলাটি খারিজ করে দেন। এরপর একই ঘটনায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালত মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পাঠিয়েছেন। তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করবো।
