শরীয়তপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থী-নৌকা সমর্থকের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ককটেল বিস্ফোরণে আহত ৫

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:২৩ এএম

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ শওকত আলী ও নৌকার প্রার্থী এ কে এম এনামুল হক শামীমের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণ, ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে নড়িয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ ও র‍্যাব এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতরা হলেন- নড়িয়া কেদরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ওহিদুল ইসলাম তপন ছৈয়াল (৩৩), নড়িয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আল আমিন হামজা (৫০), যুবলীগ নেতা সোহেল কাজী (৩৬), কনক লস্কর (৪০) ও সোহেল বন্দুকছি (৪০)।  আহতদের নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মাজেদা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর দাবি, নৌকার সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালিয়ে চারজনকে আহত করেন। আর নৌকার সমর্থকরা বলছেন দু'পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি একপর্যায়ে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে তাদের একজন আহত হন। 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-২ আসনে আওয়ামী লীগের (নৌকা) মনোনয়ন পান পানিসম্পদ উপমন্ত্রী ও স্থানীয় সাংসদ এ কে এম এনামুল হক শামীম। আর এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খালেদ শওকত আলী। বৃহস্পতিবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন। এদিকে রাতে নড়িয়া বাজারে নির্বাচনের বিষয় নিয়ে দু'পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় প্রায় অর্ধশতাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর চার সমর্থক তপন, সোহেল, আল আমিন ও কনক আহত হন। আর নৌকার সমর্থক সোহেল আহত হয়েছেন।  উভয় পক্ষ মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন। 

স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ শওকত আলী বলেন, সুরেশ্বর হুজুরের বাড়িতে মিলাদে যাই। তখন শুনতে পাই নড়িয়া বাজারে আমার সমর্থক কনক ও আল আমিনের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তাদের গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। তখন আমি থানায় অভিযোগ করতে আসি। থানার সামনে আসলে ওই একই দুষ্কৃতকারীরা আমার গাড়ির ওপর ককটেল ছুড়ে মারে। আমার পিছনের গাড়ি থামিয়ে আমার ড্রাইভারের চাবি নিয়ে যায় এবং তপন, সোহেল কাজীকে মারধর করে। মোস্তফা সিকদার ও সুমন সিকদারের নেতৃত্বে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। তারা দুইজন জনাব এ কে এম এনামুল হক শামীমের কর্মী বলেই আমি জানি।

তিনি বলেন, থানায় গিয়েছিলাম মামলা করতে, এখন পর্যন্ত মামলা নেয়নি। ওসি বলেছেন পরিস্থিতি শান্ত হলে মামলা নিবেন। আমি নির্বাচনে থাকবো। আমি বিশ্বাস করি নড়িয়া-সখিপুরের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে এর প্রতিশোধ নিবে। এই মূহুর্তে আমার মনে হচ্ছে না সকলের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড আছে। কারণ এখন পর্যন্ত মামলাটা হলো না।

নড়িয়া পৌরসভার মেয়র, (নৌকার সমর্থক) আবুল কালাম আজাদ মুঠোফোনে বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর কিছু লোকজন বাজারে এসে উত্তেজনা সৃষ্টি করে, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে আমাদের লোকজনদের সঙ্গে তাদের মারামারি বাধে। এসময় সোহেল বন্দুকছি নামে আমাদের একজন আহত হয়। তাই আমরা মামলা করবো।

তবে, আওয়ামী লীগের (নৌকা) প্রার্থী এ কে এম এনামুল হক শামীম মুঠোফোনে বলেন, স্থানীয় ক্যাবল ব্যবসা নিয়ে এই সংঘাত হয়। খালেদ শওকত তো আর ঐখানে ছিল না। আমি শুনছি তার বাড়ি থেকে কামাল মৃধা বালতিতে করে বোমা এনে মেরেছে।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, মামলা এখনো হয়নি, প্রক্রিয়াধীন আছে। যেহেতু ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে, আমরা বাদি হয়ে মামলা দেব। এছাড়া উভয় পক্ষ বলছে মামলা দিবে। ঘটনার সময় দু'পক্ষ অনেক ককটেল বিস্ফরণ ঘটিয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত