চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল চালুর এক মাসেই পাল্টে গেছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আরেক প্রবেশদ্বার ১৫ নম্বর ঘাটের চিত্র।
টানেল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দুয়ার খুললেও ঘাটনির্ভর খেটে খাওয়া কয়েকশ মানুষের অভিজ্ঞতা ভিন্ন। জীবিকা হারিয়ে তারা অনেকটা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
গত ২৮ অক্টোবর টানেল উদ্বোধনের পর থেকে জৌলুস হারাতে শুরু করে চিরচেনা ব্যস্ত এই ঘাটটি।
যাত্রী অনেকাংশে কমে যাওয়ায় ১৫ নম্বর ঘাটের অনেক হকারের বিক্রি, টং দোকান ও খাবারের হোটেল বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বেকার হয়ে পড়া ঘাটনির্ভর কয়েকশ পরিবহন শ্রমিকের। এতে জৌলুস হারিয়ে এখন অনেকটাই নিস্তেজ হয়ে পড়েছে ১৫ নম্বর ঘাট।
টানেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, টানেলে প্রতিদিন যান চলাচল বাড়ছে। সাধারণ যাত্রীদের পাশাপাশি অনেক দর্শনার্থী টানেল দিয়ে চলাচল করছেন। কক্সবাজারগামী কিছু দূরপাল্লার যানবাহনও টানেল দিয়ে চলাচল শুরু করেছে।
টানেলের টোল ব্যবস্থাপক বেলায়েত হোসেন বলেন, ২৯ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে ২৬ নভেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত টানেলে চলাচল করেছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৩২টি যানবাহন।
এসব যানবাহনের কাছ থেকে টোল আদায় করা হয়েছে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৫০ টাকা।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ১৫ নম্বর ঘাটের ইজারাদারের প্রতিনিধি আবুল কালাম জানান, বঙ্গবন্ধু টানেল চালুর আগে এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ পারাপার হতো।
আগে ঘাটে নৌকার জন্য অপেক্ষা করতেন যাত্রীরা আর এখন যাত্রীর জন্য দীর্ঘ সময় ঘাটে নৌকাগুলোকে অপেক্ষা করতে হয়।
বর্তমানে এই ঘাট দিয়ে দৈনিক গড়ে এক হাজার মানুষ পারাপার হচ্ছে। তবে এখন ঘাটে মানুষের তেমন কোনো ভোগান্তি নেই। নদী পারাপারের জন্য দুই শতাধিক ইঞ্জিনচালিত নৌকা আছে। এসব নৌকা এখন পর্যায়ক্রমে ভাগ করে চলাচল করছে।
কর্ণফুলী নদীর আনোয়ারা প্রান্তে ১৫ নম্বর ঘাটের দোকানি শামসুল আলম বলেন, ‘টানেল চালু হওয়ার আগে দোকান থেকে এক মিনিট বাইরে যাওয়ার সময় পেতাম না। দোকানে যাত্রীদের ভিড় লেগেই থাকত। টানেল চালু হওয়ার পর থেকে ব্যবসায় ধস নামে।’
পতেঙ্গা প্রান্তে ১৫ নম্বর ঘাটের উপকূল রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপক হারুনুর রশিদ জানান, টানেল চালু হওয়ার পর থেকেই ঘাটনির্ভর অনেক দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের দোকান চালু থাকলেও বেচাকেনা একেবারে কম।
নুরুল ইসলাম নামের এক নৌকার মাঝি বলেন, ঘাটে আগের মতো যাত্রী না থাকায় অনেকে পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হচ্ছেন। সারা দিন দুয়েকবার যাত্রী পারাপার করে যা রোজগার হচ্ছে তা দিয়ে সংসার চালানো যাচ্ছে না।
বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নোয়াব আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘বঙ্গবন্ধু টানেল আমাদের জাতীয় সম্পদ, দেশের অহংকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল
নেতৃত্বের অন্যতম নিদর্শন। তবে টানেল উদ্বোধনের পর আমাদের এলাকায় ঘাটনির্ভর বহু মানুষের জীবন-জীবিকার পথ বন্ধ হয়ে গেছে।’
আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইশতিয়াক ইমন বলেন, ‘ঘাটনির্ভর অনেক মানুষের জীবন-জীবিকায় প্রভাব পড়ায় বেকারত্ব বাড়তে পারে। যদি সুযোগ থাকে তাদের সরকারিভাবে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকল্প পেশায় পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হবে।’
