এবছর পাকিস্তানে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে গ্রেপ্তারের শিকার ১৯ শিশু

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৬:৫৪ পিএম

পাকিস্তানের পাঞ্জাবে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ১৯ শিশুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির সংবাদমাধ্যম ইন্টারন্যাশনাল দ্য নিউজ জানিয়েছে, পাঞ্জাবে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত এই শিশুদের গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে ৬ শিশু এখনো কারাগারে আছে বাকীদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি সংস্থা লিগাল অ্যাওয়ারনেস ওয়াচের পরিচালক সারমাদ আলির আবেদনের প্রেক্ষিতে এই তথ্য প্রকাশ করে পাঞ্জাবের কারাকর্তৃপক্ষ।

সারমাদ আলি জানান, পাকিস্তানজুড়ে এরকম অসংখ্য শিশু মারাত্মক পর্যায়ের ফৌজদারি আইনের শিকার হচ্ছে। এমনকি এই কম বয়সীরা অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য করা আইনি ধারায় বিচারের অধিকার থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। অনেক শিশুকে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক মান ও প্রচলিত ধারার বিরোধী।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, শিশুরা যতই গুরুতর অপরাধ করুক না কেন, তাদেরকে দেশের সংবিধান স্বীকৃত ধারায় বিচার করতে হবে। এজন্য পাকিস্তানে জুভেনাইল জাস্টিস সিস্টেম অ্যাক্ট ২০১৮ রয়েছে।

পাকিস্তানে ব্লাসফেমি বা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ খুবই গুরুত্বের সাথে দেখা হয়। এই আইনের অধীনে কোনো ব্যক্তিকে কঠোর শাস্তির সম্মুখীন করার জন্য কখনো কখনো শুধু অভিযোগই যথেষ্ট হয়। 

পাকিস্তানের ব্লাসফেমি আইনের অধীনে যারা ইসলাম ধর্মকে অবমাননা করে তাদেরকে মৃত্যুদন্ড সহ কঠোর শাস্তি দেওয়া হয়।

ধর্ম সম্পর্কিত অপরাধের আইন ১৮৬০ সালে ভারতের বৃটিশ শাসকদের দ্বারা প্রথমবার বর্ণিত হয়। পরে ১৯২৭ সালে এটিকে আরো বিস্তৃত করা হয়।

১৯৪৭ সালে ভারত থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তান এই আইনগুলোকে গ্রহণ করে। প্রাচীন আইন অনুযায়ী, কোনো ধর্মীয় সমাবেশে গন্ডগোল করা, অন্য ধর্মের সমাধিস্থানে প্রবেশ করা, ধর্মীয় বিশ্বাস অপমান করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ধর্মীয় স্থান বা বস্তু ধ্বংস বা তার ক্ষতি করায় সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদন্ড দেয়া যেতো। কিন্তু ১৯৮০ থেকে ১৯৮৬ সালের মধ্যে সেনাশাসক জিয়াউল হকের সময় এই আইনে আরো বেশ কয়েকটি ধারা সংযুক্ত করা হয়।

আইন সংযুক্ত নতুন ধারায় ইসলামের কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করাকে অবৈধ করা হয়, 'ইচ্ছাকৃতভাবে' কোরান অপবিত্র করলে যাবজ্জীবন কারাদন্ড শাস্তির বিধান আনা হয় এবং পরে, নবী মুহম্মদকে অবমাননা করলে যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা মৃত্যুদন্ডের বিধানের বিষয়গুলো সংযুক্ত করা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত