আচরণবিধি বেশি লঙ্ঘন হয় শোডাউন-মিছিল-পোস্টারে

  • বেশি আচরণবিধি লঙ্ঘন হয় শোডাউন-মিছিল ও পোস্টার লাগানোর ক্ষেত্রে
  • মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করা যাবে না
  • নির্বাচনের সময় দেয়াল লিখনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে

 

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:১৪ এএম

দেশে সবচেয়ে বেশি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়ে থাকে শোডাউন-মিছিল ও পোস্টার লাগানোর ক্ষেত্রে। নিয়ম অনুযায়ী, তফশিল ঘোষণার পর থেকেই আচরণবিধির আওতায় পরে যান সবাই। অথচ নির্বাচনের প্রচারণা শুরুর দিন না আসা পর্যন্ত এখন যেভাবে পোস্টার-ব্যানার লাগানো হচ্ছে বা শোডাউন-মিছিল করে যাচ্ছেন প্রার্থীরা তার সবগুলোই অবৈধ। 

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এ তালিকায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা রয়েছেন। মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত ২৪ প্রার্থীকে শোকজ দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গঠিত নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি। স্বাভাবিকভাবেই মানুষের মনে প্রশ্ন উঠছে⎯ কী করলে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয়?

সংসদীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ ও এর সংশোধনী (২০১৩) অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি কোনো ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌ-যান, ট্রেন কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক যানবাহন নিয়ে মিছিল করা যাবে না কিংবা কোনো শোডাউন করা যাবে না; মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ও মিছিল কিংবা শোডাউন করা যাবে না। অপরদিকে সিটি করপোরেশন ও পৌর এলাকায় অবস্থিত দালান, বিল্ডিং, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটিতে বা যানবাহনে পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগানো যাবে না; তবে দেশের যে কোনো স্থানে পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল রশিতে ঝুলিয়ে টাঙানো যাবে। 

শুধু মিছিল বা শোডাউন নয়⎯  মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা অন্য কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে নির্বাচনী প্রচারণা করা যাবে না; মাইকে নির্বাচনী প্রচারণা দুপুর ২টা হতে রাত ৮টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে; নির্বাচনী প্রচারণার জন্য প্রার্থীর ছবি বা প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণামূলক কোনো বক্তব্য বা কোনো শার্ট, জ্যাকেট, ফতুয়া ইত্যাদি ব্যবহার করা যাবে না; নির্বাচনী ক্যাম্পে কোনো কোমল পানীয় বা খাদ্য পরিবেশন বা কোনো উপঢৌকন প্রদান করাও যাবে না।

বিধিমালায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানে চাঁদা বা অনুদান দেওয়া যাবে না; সরকারি ডাক-বাংলো, রেস্ট হাউজ, সার্কিট হাউজ বা কোনো সরকারি কার্যালয়কে কোনো দল বা প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারের স্থান হিসাবে ব্যবহার করা যাবে না; নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা ফলক উন্মোচনও করা যাবে না।

বিধিমালা বলছে, নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো গেট বা তোরণ নির্মাণ করা যাবে না কিংবা চলাচলের পথে কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না; নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ৪০০ বর্গফুটের বেশি স্থান নিয়ে কোনো প্যান্ডেল তৈরি করা যাবে না; নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসাবে বিদ্যুতের সাহায্যে কোনো প্রকার আলোকসজ্জা করা যাবে না; কোনো সড়ক কিংবা জনগণের চলাচলের স্থানে নির্বাচনী ক্যাম্প করা যাবে না।

বিধিমালায় আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত পোস্টার ও ব্যানার সাদাকালো হতে হবে; পোস্টারের সাইজ অনধিক ষাট বাই পঁয়তাল্লিশ সেন্টিমিটার এবং ব্যানার অনধিক তিন বাই এক মিটার হতে হবে; পোস্টার বা ব্যানারে প্রার্থীর নিজের প্রতীক ও ছবি ছাড়া অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক প্রকাশ করা যাবে না। 

বিধিমালায় পোস্টার ঝুলিয়ে লাগানোর কথা বলা হলেও নির্বাচনের সময় দেয়াল লিখনও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু দেয়াল নয়, কোনো দালান, থাম, বাড়ি বা ঘরের ছাদ, সেতু, সড়ক দ্বীপ, রোড ডিভাইডার, যানবাহন বা অন্য কোনো স্থাপনায়ও প্রচারণামূলক লিখন বা অংকন করা যাবে না। 

এবারের নির্বাচন উপলক্ষে ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য মোট দুই হাজার ৭৪১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। যেখানে মোট ৩০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী রয়েছেন। বিএনপি নির্বাচন কমিশনের প্রতি অনাস্থা জানিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে না। যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ এবং জাতিসংঘও নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এখন আচরণবিধি লঙ্ঘনের মাত্রা যেভাবে বাড়ছে তাতে নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কতটা ব্যবস্থা নেবে সেটাই দেখার বিষয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত