নভেম্বরের শুরুতে রেমিট্যান্সে ডলার ক্রয়ে ইচ্ছামতো দামের স্বাধীনতা দেওয়ায় শুরুতে প্রবাসী আয়ে উল্লম্ফন দেখা দেয়। হঠাৎ করে দাম বেশি পাওয়ায় প্রবাসীরা রেমিট্যান্স পাঠাতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। এতে করে নভেম্বরে রেমিট্যান্স ২০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়। তবে আবার কড়াকড়ি আরোপের পর ডলারের দাম বেঁধে দেওয়ায় প্রবাহ কমে যায়। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই চলতি বছরের নভেম্বরে ১৯৩ কোটি ডলার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা আগের মাসে ছিল প্রায় ১৯৮ কোটি ডলার।
তবে অক্টোবরের তুলনায় কমলেও আগের বছরের নভেম্বরের তুলনায় রেমিট্যান্সে ভালো প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বাংলাদেশ। গত বছরের নভেম্বরে এসেছিল ১৫৯ কোটি ডলার, যা চলতি বছরের নভেম্বরের চেয়ে ৩৩ কোটি ডলার বা ২১ শতাংশ বেশি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, নভেম্বরের প্রথম ৩ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০ কোটি ৫০ লাখ ডলারের। কিন্তু ব্যাংকগুলো বেশি দরে ডলার ক্রয় শুরু করলে পরের ৭ দিনে রেমিট্যান্স আসে ৫৯ কোটি ডলারের। অর্থাৎ প্রতিদিন ৮ কোটি ৪২ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছিল। আর কড়াকড়ি শুরুর পর শেষের ২০ দিনে এসেছে ১১৪ কোটি ডলার, দৈনিক যা ৫ কোটি ৬৯ লাখ ডলার।
ব্যাংকাররা বলছেন, মাসের শুরুতে বেশি টাকা পাওয়ার আশায় প্রবাসীরা দেশে বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। কিন্তু কড়াকড়ি করার কারণে পরে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমেছে। এজন্য রেমিট্যান্সে ডলারের দর বাজারভিত্তিক করার পক্ষে তারা।
সদ্য বিদায়ী নভেম্বর মাসের রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৪ কোটি ৪২ লাখ ৬০ হাজার ডলার, বিশেষায়িত দুই ব্যাংকের মধ্যে এক ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫ কোটি ৩১ লাখ ৮০ হাজার ডলার। বেসরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ১৭২ কোটি ৬৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে ৫৯ লাখ ২০ হাজার ডলার। তবে ৭ ব্যাংকের মাধ্যমে কোনো রেমিট্যান্স আসেনি।
জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ডলারের দর বাড়ার কারণে রেমিট্যান্স বেড়েছে এটা সত্য। রেমিট্যান্স বাড়াতে দর বৃদ্ধি করা সমাধান নয়। কারণ হুট করে দর বৃদ্ধির কারণে হুন্ডি ব্যবসায়ীরা সমন্বয় করতে পারেননি। এ কারণে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। তবে এটা অব্যাহত থাকলে হুন্ডিও বাধ্য হয়ে দর বাড়াত।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, নভেম্বরে সবচেয়ে বেশি রেমিট্যান্স এসেছে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে। ব্যাংকটি গত মাসে রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে ৪৭ কোটি ২০ লাখ ডলারের। এরপরের অবস্থানে থাকা পূবালী ব্যাংক ১৩ কোটি ৯০ লাখ এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ৯ কোটি ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ করে।
গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬১ কোটি ৬ লাখ মার্কিন ডলার। আগের ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলার। ২০২০-২১ অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ মার্কিন ডলার।
