ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

উত্তেজনা ছড়ানো সিটি-টটেনহামের নাটকীয় ড্র

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:২৬ এএম

ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট একাই নজর কেড়ে নিয়েছেন সন হিউং-মিন। বল পাঠিয়েছেন দুই জালেই। এরপর শুরু হলো ম্যানচেস্টার সিটির আক্রমণের ঢেউ। হাল ছাড়েনি টটেনহ্যামও। উত্তেজনাপূর্ণ নাটকীয়তায় ঠাসা লড়াইয়ে দুইবার এগিয়ে গিয়েও জিততে পারেনি লিগ চ্যাম্পিয়নরা। ইতিহাদ স্টেডিয়ামে রোববার প্রিমিয়ার লিগের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ৩-৩ ড্র হয়েছে। ৬ গোলের উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচ শেষে টানা তিন ড্রয়ে টেবিলের তিনে নেমে এলো সিটি।

ম্যাচের ৬ মিনিটেই সনের গোলে লিড নেয় স্পার্স। ৯ মিনিটের মাথায় তারই আত্মঘাতী গোলে সমতায় ফেরে সিটি। এরপর ৩১তম মিনিটে ফিল ফোডেনের গোলে ম্যাচে প্রথমবারের মতো লিড নেয় সিটি। প্রথমার্ধ কাটে সিটির লিডের মধ্য দিয়েই। দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে ৬৯তম মিনিটে লো সেলসোর গোলে ম্যাচে সমতায় ফেরে স্পার্স। ৮১তম মিনিটে জ্যাক গ্রিলিশের গোলে দ্বিতীয়বারের মতো লিড পায় সিটি। ম্যাচ তখন প্রায় শেষের পথে, জয়ের খুব কাছেই ছিল সিটি। ৯০তম মিনিটে কুলুসেভস্কির গোলে সমতায় ফেরে স্পার্স। আর তাতেই রোমাঞ্চকর লড়াই শেষ হয় অমীমাংসিতভাবে।

দুর্দান্ত এক প্রতি-আক্রমণে শুরুতেই সিটির বুকে আঘাত হানে টটেনহ্যাম। ষষ্ঠ মিনিটে কুলুসেভস্কির লম্বা করে বাড়ানো থ্রু বল মাঝমাঠে সিটির জেরেমির দোকুর নাগালেই ছিল; তবে তিনি হয়তো বুঝতেই পারেননি পেছনে আছেন সন। চোখের পলকে তিনি এগিয়ে মাথা দিয়ে বল নিয়ন্ত্রণে নেন, এরপর দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে গোলটি করেন দক্ষিণ কোরিয়ান ফরোয়ার্ড।

এগিয়ে যাওয়ার আনন্দ তিন মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি টটেনহ্যামের। ডান দিক থেকে তাদের ডি-বক্সে ক্রস বাড়ান হুলিয়ান আলভারেস। গোলমুখে আর্লিং হালান্ড ফ্লিক করার চেষ্টা করে পারেননি। ডিফেন্ডার এমেরসন বল ক্লিয়ার করতে গেলে মিস করেন। তার পেছনে থাকা সনের হাঁটুতে লেগে বল চলে যায় জালে!

আক্রমণের তেজ এর পর আরও বাড়িয়ে দেয় সিটিজেনরা। চাপ ধরে রেখে ৩১তম মিনিটে এগিয়ে যায় শিরোপাধারীরা। ছোট ছোট পাসে গড়া আক্রমণে বক্সে আলভারেসের বাড়ানো বল পেয়ে কাছ থেকে গোলটি করেন ফোডেন। খানিক বাদে পরপর দুই মিনিটে সুবর্ণ সুটি সুযোগ হারায় সিটি। ৩৫তম মিনিটে আলভারেসের শট ভাগ্যের ফেরে বাধা পায় পোস্টে। পরের মিনিটে আরেক দফায় ডি-বক্সে ফাঁকায় বল পেয়েও উড়িয়ে মারেন হালান্ড।

জিওভানি লো সেলসোর নৈপুণ্যে ৬৯তম মিনিটে সমতায় ফেরে স্পার্সরা। সনের পাস ডি-বক্সের বাইরে পেয়ে নিচু শট নেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। ঠেকাতে ঝাঁপিয়ে পড়েন এদেরসন, বলে আঙুলও ছোঁয়ান তিনি, কিন্তু রুখতে পারেননি।

জয়ের পথে ফিরতে মরিয়া সিটি আবার এগিয়ে যায় ৮১তম মিনিটে। ডি-বক্সে ডিফেন্ডারদের চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে ডান দিক থেকে মাঝমাঝি জায়গায় গ্রিলিশকে খুঁজে নেন হালান্ড। ডান পায়ের নিখুঁত শটে স্কোরলাইন ৩-২ করেন ইংলিশ মিডফিল্ডার। নাটকের বাকি তখনো। নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে জালে বল পাঠিয়ে চিত্র পাল্টে দেন কুলুসেভস্কি। বাঁ থেকে সতীর্থের ক্রস ছয় গজ বক্সের মুখে পেয়ে হেডে গোলটি করেন সুইডেনের মিডফিল্ডার।

এবারের লিগে প্রথম ১০ রাউন্ডে অপরাজিত থাকা টটেনহাম এরপর হেরে বসে পরপর তিন ম্যাচে। বিপরীতে টানা জয়ের পর সিটিও এখন হাটছে উল্টো পথে। এই নিয়ে টানা তিন ম্যাচ ড্র করল দলটি। চেলসির সঙ্গে ৪-৪, এবং লিভারপুলের সঙ্গে ১-১ স্কোরলাইনের পর এবারের টটেনহামের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করলো তারা। ১৪ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে সিটি এখন তিন নম্বরে। ১৪ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল। সমান ম্যাচে ৩১ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে উঠেছে লিভারপুল। ২৭ পয়েন্ট নিয়ে পাঁচে আছে টটেনহাম।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত