মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী গত মাসের শুরুতেই জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। নভেম্বরের ৪ তারিখে রাত ৭টা ৫৫ মিনিটে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার পার্ট-২ থেকে মুক্ত করা হয় তাকে।
জেল থেকে মুক্তির জন্য আইন-আদালত, উকিল এসবের পেছনে নাকি প্রায় কোটি ব্যয় হয়েছে তার- এক ওয়াজ মাহফিলে এমনটাই জানালেন এই ধর্মীয় বক্তা। তিনি বলেন, আমার বাবা মারা গেছে ২০০৮ সালে। আমার বাবার যে সম্পত্তি ছিল আমার নামে, সব বিক্রি করে দেওয়া লাগছে। আমার মায়ের যে সম্পত্তি ছিল এগুলোও বিক্রি করে দিতে হয়েছে। আমার ভাইয়ের, আমার বৌয়ের সম্পত্তিও বিক্রি করে দিতে হয়েছে।
তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমার জমি ছিল কারো টাকা আমি ধরি নাই। হাদিয়াও না। যখন শেষ হয়ে গেছে, তখন কিছু আলেমে দিন আমার সহযোগিতায় এগিয়ে আসে। আমাদের মোট সম্পত্তি যত ছিল তারচেয়েও দুই গুণ তিন গুণ হাদিয়া তারা দিয়েছে। কোটি টাকার মতো তো হবেই।
এদিকে, মাদানী জামিনে মুক্তির দশদিনের মাথায় বিয়ে করেন। বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন রফিকুল ইসলাম মাদানী।
মাদানী সম্প্রতি এক ওয়াজ মাহফিলে বলেন, আমি জেল থেকে মুক্তি পেয়ে ১০ দিন পরেই বিয়ে করেছি। আমার বিয়েতে খরচ হয়েছে দশ লাখ টাকা। ওয়ালিমা, মোহরানা বাবদ এই খরচ হয়েছে।এসব খরচ করার সামর্থ আমার ছিল না। সব আমার ভক্তরা দিয়েছে।
গত ২০২১ সালের ৭ এপ্রিল রাত সাড়ে ৩টার দিকে রফিকুলকে নেত্রকোণার নিজ বাড়ি থেকে আটক করে র্যাব। এরপর ৮ এপ্রিল মাদানীর নামে গাজীপুরের গাছা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা দায়ের করে র্যাবের নায়েক সুবেদার আবদুল খালেক। এরপর গাজীপুরের বাসন ও রাজধানীর মতিঝিল ও তেজগাঁও থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
এর আগে, রফিকুল ইসলাম মাদানী ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ও দেশের প্রচলিত আইনবিরোধী ও জনমনে সংঘাতের সৃষ্টি করে-এমন বক্তব্য দেবেন না বলে মুচলেকা দিয়েছেন। পরে আদালত তাকে জামিন দেন। সব মামলায় তিনি জামিন পেলেন।