দীর্ঘদিন ধরেই খাদ্য নিরাপত্তার অভাব কিম জং উনের দেশ উত্তর কোরিয়ায়।
বিশ্লেষকদের অভিমত, বৈরী আবহাওয়া ও করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ দিন সীমানা বন্ধ থাকার কারণে খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছে দেশটিতে। এছাড়াও, কেন্দ্রীয়ভাবে সব পরিকল্পনা সাজানোর কারণে অর্থনৈতিক মন্দা, সামরিক খাতে ব্যয় বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক অবরোধ এই সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর কোরিয়ার এক গ্রামে বয়স্ক এক দম্পতি অনাহারে মারা যায়। এমনকি এপ্রিলেও অনাহারে মারা যান দুইজন কৃষক।
২০২৩ সালের বৈশ্বিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে উত্তর কোরিয়ার সীমানা বন্ধ হওয়ার পর থেকে "খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সঠিক তথ্য পাওয়া চ্যালেঞ্জিং"। কিন্তু দেশটির পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার ইঙ্গিত ছিল প্রতিবেদনে। এমনকি চলতি বছরের মার্চ মাসে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির কাছে সাহায্য চেয়েছিল উত্তর কোরিয়া।
অনাহার ও অনিশ্চিত জীবন থেকে রক্ষা পেতে পরিবারসহ নৌকায় করে পালাচ্ছে উত্তর কোরিয়ার অনেক পরিবার। তেমনি নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নৌকায় করে পালিয়েছিল কিম নামে উত্তর কোরিয়ার এক যুবক।
বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসি নিউজ।
বিবিসিতে বলা হয়, উত্তর কোরিয়া থেকে পালানো অত্যন্ত বিপজ্জনক। এমনকি ধরা পড়লে মৃত্যুদণ্ডের বিধান পর্যন্ত রয়েছে দেশটিতে। এছাড়া কোভিড মহামারির সময় থেকে কিম জং উনের সরকার সীমান্তে আরও নজরদারি বাড়িয়েছে। ফলে উত্তর কোরিয়া থেকে দক্ষিণ কোরিয়া পালিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা অনেক কমে গেছে।
সাধারণত বছরে যেখানে কম-বেশি হাজার খানেক মানুষ পালাতো, সেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল মাত্র শত এর নিচে।
এ বছর উত্তর কোরিয়ার থেকে সমুদ্রপথে পালিয়ে আসা কিমই প্রথম ব্যক্তি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন, কিমের গর্ভবতী স্ত্রী, তার মা ও তার ভাইয়ের পরিবারের সদস্যরা।
কিম ও তার পরিবারের সদস্যরাই একমাত্র পরিবার যারা এ বছর দেশ ছেড়ে দক্ষিণ কোরিয়াতে পালিয়ে আসতে পেরেছেন।
এক সাক্ষাৎকারে কিম জানান তার উত্তর কোরিয়া থেকে পালিয়ে আসার লোমহর্ষক ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা জানান বিবিসিকে। উত্তাল সমুদ্রে উত্তর কোরিয়ার নজরদারি জাহাজের চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা পালিয়ে এসেছিলেন। কয়েক মাসের পরিকল্পনায় এটি করার ঝুঁকি নেন কিম। তিন বছরের চেষ্টায় পালাতে একটি ছোট নৌকা ব্যবহার করে কিম।
নৌকায় কিম তার পরিবারের বাচ্চাদের পুরোনো বস্তার ভেতর লুকিয়ে রাখে। পুরুষ সদস্যরা সঙ্গে ধারালো অস্ত্র রাখেন, আর নারীদের দেয়া হয় পয়জন পিল, ডিমের খোষায় ভরা মরিচের গুরো ও বালু। যাতে ধরা পরলে সেগুলো দিয়ে গার্ডদের মুখে ছুড়ে দেয়া যায়। কারণ ধরা পড়লে মৃত্যুদণ্ড হতে পারতো তাদের।
সিউলে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে উত্তর কোরিয়ার অনাহারের বিস্তারিত শুনেছেন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উত্তর কোরিয়া বিশেষজ্ঞ, চোই জায়ে-হুন। তিনি জানান, "আমরা শুনেছি যে কোভিডের সময় খাদ্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছিল, এবং কিছু এলাকায় কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল।"
তবে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ফেব্রুয়ারিতে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়, কিম খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের তাগিদও দিয়েছেন।
