ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড গাজাতে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় বহুল আকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিরতি আটকে গেল।
নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিনের গাজায় অবিলম্বে মানবিক যুদ্ধবিরতি ও জিম্মিদের নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান জানিয়ে প্রস্তাব তোলা হয়।
অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটিতে যুদ্ধবিরতি আটকে দেয়ায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। অবরুদ্ধ ও বিধ্বস্ত গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভেটো দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র 'যুদ্ধাপরাধে জড়িয়ে পড়ার' ঝুঁকিতে আছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
শনিবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় দ্যা গার্ডিয়ান ও বিবিসি।
হিউম্যান রাইটসের জাতিসংঘ পরিচালক লুই শাখবোনো বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেওয়ায় দেশটি 'যুদ্ধাপরাধে জড়িয়ে পড়ার' ঝুঁকিতে আছে।
“এছাড়া ইসরায়েলকে ক্রমাগত অস্ত্র ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নৃশংসতায় জড়িয়ে পড়েছে। তারা গাজায় সব ফিলিস্তিনিকে শাস্তি দিচ্ছে।“ বলেও জানান তিনি।
লুই আরও বলেন, 'আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে সব বেসামরিক মানুষকে রক্ষা করতে হবে। পাশাপাশি, সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে।'
যুক্তরাষ্ট্র নিজেই ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সংঘাত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানালেও সবচেয়ে শক্তিশালী দেশটি নিরাপত্তা পরিষদে ভেটো দেওয়ায় এমন মন্তব্য করেন লুই।
লুই জানান, এই প্রস্তাবের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং জিম্মি সমস্ত বেসামরিক নাগরিকদের মুক্তি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৭ অক্টোবর গাজা সংঘাত শুরুর পর থেকে ইসরায়েলকে ১৫ হাজার বোমা ও ১৫৫ মিলিমিটারের ৫৭ হাজার গোলা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ ছাড়া ইসরায়েলকে ৫ হাজারের বেশি এমকে–৮২ বোমা, ৮ হাজার ৪০০টির বেশি এমকে–৮৪ বোমা, প্রায় ১ হাজার জিবিইউ–৩৯ বোমা ও প্রায় ৩ হাজার জেডিএএম বোমা দেওয়া হয়েছে।
সামরিক অভিযান চালাতে প্রতিবছরই ইসরায়েলকে শত শত কোটি ডলারের আর্থিক বরাদ্দ দিয়ে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বর্তমানে পাঠানো সমরাস্ত্রগুলো সেই বরাদ্দের বাইরে আলাদাভাবে দেওয়া হচ্ছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজায় ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী কিছু হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বোমাগুলো ব্যবহার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। সেসব হামলায় শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন।
