সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণে আইন করল ইইউ

  • সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ, ব্যবসা, চাকরিক্ষেত্রে নিরাপত্তা বজায় রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আইন করল ইইউ। 
  • আইন লঙ্ঘন করলেই প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে বৈশ্বিক রাজস্বের সাত শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হবে।
আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:০৬ পিএম

বিশ্বের প্রায় সব প্রান্তে দ্রুত ছড়িয়ে গেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি। আর এই প্রযুক্তি বিস্তারের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরাপত্তার বিষয়টি।

আর তাই সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্য এবং চাকরি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা বজায় রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের জন্য যুগান্তকারী আইনে সম্মত হয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নীতিনির্ধারকরা।

শনিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম রয়টার্স ও আল জাজিরা।

শুক্রবার কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, ওপেনএআই ও চ্যাটজিপিটির মতো কৃত্তিম প্রযুক্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টার আলোচনা শেষে একটি অস্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো ও ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা।  

খুব দ্রুত চূড়ান্ত আইনে পরিবর্তন করা হবে এই অস্থায়ী চুক্তিকে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান উরসুলা ভন ডার লোয়েন বলেন, “এটি বিশ্বের প্রথম এইআই অ্যাক্ট। কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বিকাশের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণের জন্য এটি একটি অন্যন্য আইনি কাঠামো।“

তিনি আরও বলেন, “এই আইন মানুষ এবং ব্যবসার নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকারের জন্য।“

এক সংবাদ সম্মেলনে ইউরোপীয় কমিশনার থিয়েরি ব্রেটন বলেন, "ইউরোপ একটি বিশ্বব্যাপী মান নির্ধারণকারী হিসাবে তার ভূমিকার গুরুত্ব বুঝতে পেরে নিজেকে অগ্রগামী হিসেবে অবস্থান করেছে। আমি বিশ্বাস করি, এটি একটি ঐতিহাসিক দিন।"

নতুন আইন অনুযায়ী ওপেনএআই ও চ্যাটজিপিটির এর মতো প্রযুক্তি বাজারে আনার আগে কিছু বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে। যার মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তিগত নথিপত্র প্রদান, ইইউ কপিরাইট আইন মেনে চলা এবং বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো।

এছাড়া নতুন আগত প্রযুক্তিগুলোতে কি পরিমাণ ঝুঁকি রয়েছে তা মূল্যায়ন করা ও সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া এবং গুরুতর কোন বিষয়ে ইউরোপীয় কমিশনে রিপোর্ট করার বিষয়টি ও উঠে এসেছে নতুন এই আইনে।

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা আইনে আরও বলা হয়েছে যে নতুন প্রযুক্তির সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের দক্ষতার বিষয়েও জানাতে হবে ইইউকে।

এছাড়া ইইউতে ব্যবসারত প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার পাশাপাশি তাদের প্রযুক্তির পরীক্ষা চালানোর জন্য ব্যবহৃত ডাটা প্রকাশ করতে হবে, বিশেষ করে স্ব-চালিত যানবাহন এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ খাতে যখন এআই ব্যবহৃত হয়।

আইন লঙ্ঘনকারী প্রযুক্তি সংস্থাগুলিকে আইন লঙ্ঘন এবং কোম্পানির আকারের উপর নির্ভর করে বৈশ্বিক রাজস্বের সাত শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হবে।

ইউরোপের কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা আইন এমন এক সময়ে প্রবর্তন হল যখন ওপেনএআই, মাইক্রোসফ্টের মতো কোম্পানিগুলো এক্লের পর এক প্রযুক্তি নিয়ে আসছে।

এছাড়া ওপেনএআই এর প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নতুন এআই জেমিনি বাজারে নিয়ে এসেছে গুগল। এখন দেখার বিষয় ইইউর আইনে কতটুকু নিয়ন্ত্রণ করা যায় এদের।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত