নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল শুনানির প্রথম দিনে বাছাইয়ে বাদ পড়া বিকল্পধারার নেতা মাহী বি. চৌধুরীসহ ৫৬ জন প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। গতকাল রবিবার নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে এ শুনানি হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সভাপতিত্বে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শুনানি চলে। প্রথম দিনে ১০০ জনের আপিল শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। এর মধ্যে ৯৪ জনের আপিল আবেদনের শুনানি হয়। আপিলকারী একজন অভিযোগ করেছেন, সিইসি তাকে ‘গেট আউট’ বলে বের করে দিয়ে হাইকোর্টে যেতে বলেছেন।
আপিল শুনানিতে ৩২ জনের প্রার্থিতা নামঞ্জুর এবং ছয়টিই আবেদন সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রাখা হয়। আর বাকি ছয় প্রার্থী এদিন অনুপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার তালিকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের মো. নাসিরুল ইসলাম খান, বিকল্পধারার মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের মাহী বি. চৌধুরী, নেত্রকোনা-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আনোয়ার হোসেন, পাবনা-২ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) প্রার্থী ডলি সায়ন্তনী, বগুড়া-৪ আসনে বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী হিরো আলমসহ বিভিন্ন দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। ইসির যুগ্ম সচিব মাহবুবার রহমান সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
আপিল শুনানি পর্যায়ক্রমে ছয় দিন চলবে। কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো ব্যক্তি চাইলে উচ্চ আদালতে যেতে পারবেন। প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হয় আপিল শুনানি। এর মধ্যে ১০ ডিসেম্বর ১-১০০ নম্বর আপিল, ১১ ডিসেম্বর ১০১-২০০ নম্বর আপিল, ১২ ডিসেম্বর ২০১-৩০০ নম্বর আপিল, ১৩ ডিসেম্বর ৩০১-৪০০ নম্বর আপিল, ১৪ ডিসেম্বর ৪০১-৫০০ নম্বর আপিল এবং ১৫ ডিসেম্বর ৫০১ থেকে অবশিষ্ট আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৩০ নভেম্বর নির্ধারিত সময়ে ৩০০ আসনে মনোনয়নপত্র জমা হয় ২ হাজার ৭১৬টি। এর মধ্যে বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তারা বাতিল করেছেন ৭৩১ জনের এবং বৈধ হয়েছে ১ হাজার ৯৮৫টি মনোনয়নপত্র। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বাদ পড়াদের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫৬১টি আপিল আবেদন জমা পড়েছিল ইসিতে।
প্রার্থীকে ‘গেট আউট’ বলে হাইকোর্টে যেতে বললেন সিইসি : প্রার্থিতা ফিরে পেতে আপিল শুনানিতে অংশগ্রহণ করতে নির্ধারিত সময়ের ৩৮ মিনিট আগেই কমিশনে যান টাঙ্গাইল-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী এটিএম আনিসুর রহমান বুলবুল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের আগে তার বিষয়ে শুনানি শেষ করে ফেলে ইসি। যথাসময়ে এলেও তাকে কমিশন ডিসকোয়ালিফায়েড করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে উদ্দেশ্য করে সিইসি বলেন, ‘গেট আউট’।
স্বতন্ত্র প্রার্থী বুলবুল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি শুনানির আধা ঘণ্টা আগেই এসেছি। পরে আমি ভেতরে যাওয়ার পর আমাকে বলা হলো আপনার হিয়ারিং হয়ে গেছে। আমার সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে। তাকে (সিইসি) বিনীত অনুরোধ করার পরও বললেন, হবে না। আমার শুনানি ১২টায় ছিল। কিন্তু সিইসি বললেন নো, আপনি হাইকোর্টে যান। গেট আউট, আপনার আইনজীবী সময়ের জন্য কিছু বলেননি। এরপর পুলিশ দিয়ে আমাকে বের করে দিয়েছেন তারা।’
ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে ভোট বন্ধ : দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন ব্যালট বাক্স ছিনতাই হলে ভোটগ্রহণ বন্ধ করার নির্দেশনা দিয়েছে ইসি। গতকাল বিকেলে ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার উপসচিব মো. আতিয়ার রহমান সারা দেশের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের এ নির্দেশনা পাঠান। এ প্রসঙ্গসহ আরও কিছু বিষয়ে নির্দেশনা তুলে ধরে ‘পরিপত্র-১২’ জারি করেছে ইসি। এতে ভোটকক্ষে একাধিক ব্যালট বাক্স একসঙ্গে ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছে ইসি। এ ছাড়া প্রার্থীদের যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের কোনো একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্ট থেকে নির্বাচনী ব্যয় করতে হবে বলে পরিপত্রে জানানো হয়।
ইসির ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ১৭ ডিসেম্বর। এরপর চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা জানা যাবে। তারপর রিটার্নিং কর্মকর্তারা প্রতীক বরাদ্দ করবেন ১৮ ডিসেম্বর। ওইদিন থেকে প্রচারে নামবেন প্রার্থীরা, যা চলবে ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত।
