চার বছর ধরে ক্লাসে অনুপস্থিত বেরোবি প্রভাষক

আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:৪৪ পিএম

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের প্রভাষক মাশরেকি মুস্তারির  বিরুদ্ধে চার বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ৮৯ দিনের ছুটি নিয়ে ওই শিক্ষিকা আর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস –পরীক্ষায় অংশ নেননি। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নোটিশ দিলেও ওই শিক্ষিকার কাছ থেকে কোনরকম জবাব মেলেনি। ফলে বিষয়টি অনুসন্ধানের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। 


দীর্ঘ অনুপস্থিতির কারনে লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। এতে সেশনজট তৈরীর আশঙ্কা করছেন উক্ত বিভাগের শিক্ষার্থীরা। 


জানা যায়, ২০১৮ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন মাশরেকি মুস্তারি। নিয়োগের পর থেকে ঢাকায় বুনিয়াদি প্রশিক্ষণের জন্য এক বছর ধরে ঢাকায় অবস্থান করেন। পরে বিভাগের সেশনজট নিরসনে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তিনি কয়েকটি ক্লাস নিতে বিশ^বিদ্যালয়ে আসেন। কিছুদিন পর ফের ক্যাম্পাসে আসা বন্ধ করেন। ২০১৯ সালের ১০ নভেম্বর তিনি সর্বশেষ ক্লাস নিয়েছেন। এরপর টানা ১৪৯১ দিন তিনি বিশ^বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত। ক্লাস না নিলেও ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি বেতনসহ সকল সুযোগ সুবিধে গ্রহণ করতেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আসলে  বেতন ভাতা ও সবধরনের সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দেয়।

আরও জানা যায়, করোনার সময় সভা-সেমিনারের জন্য ছুটি নিয়ে তিনি বর্তমানে জাপানের একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়েছেন। তবে এই ডিগ্রি অর্জনের জন্য বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে কোনরকম ছুটি নেননি।

 
এ বিষয়ে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা দেশ রূপান্তরকে বলেন,‘আমরা ভর্তির পর থেকে ওই ম্যামের ক্লাস পাইনি, শুধুমাত্র শুনেছি আমাদের শিক্ষক তিনি। বিভাগে শিক্ষক সংকটের এমন সময়ে তিনি নেই। তিনি থাকলে হয়তো আমাদের কোর্সগুলো সঠিক সময়ে শেষ হতো।’ 


এ বিষয়ে লোক প্রশাসন বিভাগের সভাপতি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০২১ সাল থেকে আমি বেশ কয়েকবার উনার সাথে যোগাযোগ করে উনাকে যোগদান করতে বলেছি। শুধু আমি না অনেক শিক্ষকদের দিয়েও বিষয়টা উনাকে জানানো হয়েছে। একজন শিক্ষকের এতদিন ধরে অনুমতি ব্যতিত ছুটিতে থাকার নিয়ম নেই।শিক্ষক সংকটের মধ্যেও এমন ঘটনা ঘটেছে যার সমাধান করা খুবই জরুরি।


শিক্ষক সমিতির সভাপতি শরিফুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। আমি চাই এই বিষয়টি জরুরি সমাধান হোক।’

 

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদ বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। এ নিয়ে ইতোমধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত