বগুড়ায় সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী আরিফ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িতদের প্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বুধবার বেলা ১২ টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বগুড়ার (অতিরিক্ত) পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার। গত ৫ ডিসেম্বর রাতে পূর্ব শত্রুতার জেরে শহরের সুলতানগঞ্জপাড়া এলাকায় ছাত্রলীগ কর্মী আরিফকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষের কয়েকজন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বগুড়া শহরের নিশিন্দারা পূর্ব খাঁপাড়া এলাকার সাকিব শেখ (১৯), সানমুন শেখ (২৩)ও একই এলাকার হিমেল শেখ (২৩)। এদের মধ্যে সাকিবের নামে একটি হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে।
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার জানান, আরিফের ভাগ্নে মুহিমের সাথে বাকবিতন্ডার জেরে গত ৭ অক্টোবর সাকিবকে ছুরিকাঘাত করে আরিফ। এ ঘটনায় সাকিবের বাবা মামলা করলে সদর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠান । ১৮ দিন পর সাকিব জেল থেকে ছাড়া পেয়েই আরিফকে হত্যার পরিকল্পনা করে। গত ৫ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের সুলতানগঞ্জ পাড়ার আরজু ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপের সামনে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তারা অপেক্ষা করে। আরিফ ঘটনাস্থলে যাওয়ার সঙ্গেই তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা পাশ্ববর্তী জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে। তারা হিলি সীমান্ত দিয়ে দেশের বাইরে যাওয়ারও চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে ঢাকার কাকরাইল মসজিদে অবস্থান নেয়। এছাড়াও তাবলীগ জামাতের মুসল্লি সেজে বিভিন্ন মসজিদে অব্স্থান করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বগুড়া সদর থানার একটি টিমসহ, এন্টি টেররিজম ইউনিট ও গোয়েন্দা বিভাগের সহযোগিতায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাইহান ওলিউল্লাহ জানান, প্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় জড়িত বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।