বিএনপিসহ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী দলগুলো সরকারের অনুমতি নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বা কর্মসূচি পালন করলে নির্বাচন কমিশনের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। গতকাল বুধবার রাতে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) মো. আলমগীর।
এর আগে ১২ ডিসেম্বর (মঙ্গলবার) ভোটকে নিরুৎসাহিত করে এমন সভা-সমাবেশের অনুমতি না দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেয় ইসি। সেই নির্দেশনার ব্যাখ্যায় মো. আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচনী আচরণবিধি বা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে বলা হয়েছে, নির্বাচনে যদি কেউ বাধা দেয় বা প্রতিহত করে তাহলে আইন অনুযায়ী এটা অপরাধ। আমরা সেটার পরিপ্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি, এই রকম যদি কোনো রাজনৈতিক দল কর্মসূচি দিয়ে থাকে, সেটা করা যাবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিষয়টা হলো যেকোনো কর্মসূচি করতে হলে, সভা-সমাবেশ করতে হলে সরকারের অনুমতি নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে তারা সরকারের অনুমতি নেবে। সরকার যেখানে অনুমতি দেবে, সে বিষয়ে আমাদের কোনো বক্তব্য নেই। আমাদের বক্তব্য হলো, যদি নির্বাচন বাধা-সংক্রান্ত কোনো সভা-সমাবেশ ও আন্দোলন কর্মসূচি থাকে, সেটাকে যেন অনুমতি না দেওয়া হয়।’
বিএনপিসহ অনেকে নির্বাচনে আসেনি, তাদের যে কর্মসূচি, সেগুলো বন্ধে নির্বাচন কমিশন অংশ হলো কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘না। আমি আগেই ক্লিয়ার করি, সব কর্মসূচি যে-ই দিক না কেন, সেটা যদি নির্বাচনের পথে বাধা, হুমকি বা সন্ত্রাসীমূলক; এই ধরনের কার্যকলাপ, কোনো ভয় দেখায় সে ক্ষেত্রে আমরা নিষেধ করেছি। কিন্তু দেশে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বা বক্তব্য দেওয়ার অধিকার সংগঠনের আছে। সেটা করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি নিয়ে করতে হয়, সেটা করতে পারবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের অনুমতি দিতে পারবে। এ নিয়ে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।’
নির্বাচনে অংশগ্রহণ যারা করছে না, তাদের সভা-সমাবেশ করতে কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি আলমগীর বলেন, ‘আমরা কোনো দলের নাম বলিনি, কে করবে কে করবে না। আমরা বলেছি আমাদের আইনে যেটা আছে নির্বাচনের বিরুদ্ধে যদি কাজ করে...। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি প্রচলিত নিয়ম মেনে অনুমতি নিয়ে করতে হয়। সেটা পেলে করবে, অসুবিধা তো নেই।’
এ নিষেধাজ্ঞার ফলে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের রাজনৈতিক অধিকার ক্ষুন্ন হলো কি না এ প্রশ্নের জবাবে মো. আলমগীর বলেন, ‘বিএনপি নয়, যেকোনো দল যদি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি হয়, আমাদের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। যদি কোনো সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ড, ভোটদানে বাধা, কাল যেমন রেললাইন কেটে দিয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড যেন না হয় সেজন্য আমরা বলেছি। সমাবেশ করার অনুমতি দেবে তো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সেটা নিয়ে তো আমাদের বাধা নেই।’
