৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের বোমা বর্ষণে প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা। ঘরবাড়ি হারানো মানুষদের ঠাই হয়েছে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে। আবার কোনো কোনো পরিবার থাকছে নিজেদের বিধ্বস্ত বাড়ির কাছেই পলিথিন-কাপড়ে তৈরি ঝুপড়িতে। চলে এসেছে শীতকাল, এর মধ্যেই হয়েছে ভারী বৃষ্টি। রাস্তা আর মাথা গোঁজার ঠাই বলতে যা ছিল তা এখন কাদাপানিতে ভরপুর। সব মিলিয়ে গাজাবাসীর দুর্ভোগ এখন চরমে। এছাড়া খাবার, পানি, রান্নার জ্বালানি সংকটতো আছেই।
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, বৃষ্টির কারণে ফিলিস্তিনিরা নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে, যারা ইসরাইলি বাহিনীর নির্দেশে ঘরবাড়ি ছেড়ে গাজার দক্ষিণাঞ্চল আল-মাওয়াসি এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে লোকজন ভয়ানক দুর্দশার শিকার। আশ্রয়শিবিরে পর্যাপ্ত মৌলিক সুযোগ–সুবিধা নেই।
গাজা উপত্যকার কিছু অংশে এই ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বন্যা দেখা দিয়েছে। উত্তর গাজার জাবালিয়ায়, জরুরি উদ্ধারকারী দলগুলোর উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি আবু রশিদ পানির পাম্পে ইসরাইলি বিমান হামলায় ময়লা–আবর্জনা ও ধ্বংসাবশেষ রাস্তায় পানির সঙ্গে প্রবাহিত হচ্ছে।
এদিকে ফিলিস্তিনি উদ্বাস্তুদের জন্য জাতিসংঘ পরিচালিত ত্রাণ বিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডাব্লিউএর প্রধান প্রধান ফিলিপ লাজারিনি সতর্ক করে বলেছেন, চলমান যুদ্ধের কারণে গাজার জনগণের ‘সময় ও বিকল্প ফুরিয়ে যাচ্ছে’।
বুধবার জেনেভায় গ্লোবাল রিফিউজি ফোরামে দেওয়া ভাষণে লাজারিনি আরও বলেন, ‘তারা (ফিলিস্তিনিরা) একটি সংকুচিত জায়গায় বোমাবর্ষণ, বঞ্চনা ও রোগের সম্মুখীন হচ্ছে।’
গাজার পরিস্থিতিকে ‘পৃথিবীতে নরক’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের লোকেরা ‘১৯৪৮ সাল থেকে তাদের ইতিহাসের অন্ধকার অধ্যায়ের মুখোমুখি হচ্ছে এবং এটি একটি বেদনাদায়ক ইতিহাস’।
৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েল নির্বিচারে আকাশ ও স্থল থেকে গাজা উপত্যকায় বোমাবর্ষণ করছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত ১৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই নারী-শিশু। এছাড়া আহত হয়েছেন ৫০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি।
