ইসরায়েলি হামলায় গাজায় শিশু ও পুলিশসহ নিহত ৬

আপডেট : ২৪ মে ২০২৬, ১০:২৮ এএম

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। সর্বশেষ গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৫ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৩ মে) গাজা সিটি থেকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি হানি মাহমুদ জানান, বিমান হামলায় পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

আল-শিফা হাসপাতালের সূত্রের বরাত দিয়ে তিনি আরও জানান, নিকটবর্তী রাস্তায় থাকা অন্তত একজন সাধারণ নাগরিকও (বেসামরিক ব্যক্তি) এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া এই ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

গাজা পুলিশ অধিদপ্তরের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, উত্তর গাজার আত-তুয়াম এলাকায় দুটি ক্ষেপণাস্ত্র একটি পুলিশ পোস্টে আঘাত হানে।

আল জাজিরার প্রতিনিধি হানি মাহমুদ উল্লেখ করেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। শুধু যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকেই নয়, বরং তার আগে থেকেই গাজাজুড়ে পুলিশ, স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মী এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে টার্গেট করার যে ইসরায়েলি সামরিক নীতি, এটি তারই অংশ।

১০ হাজার সদস্যের এই গাজা পুলিশ বাহিনী বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা সংক্রান্ত আলোচনায় একটি অন্যতম প্রধান জটিলতার বিষয় হিসেবে সামনে এসেছে।

গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের এই ভয়াবহ যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৭২,৭৭৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে কেবল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকেই নিহত হয়েছেন ৮৮৩ জন। গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজাজুড়ে বিভিন্ন হাসপাতালে আরও ৮ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ এবং ২৯ জন আহত মানুষ এসে পৌঁছেছেন।

গাজার পুলিশ বাহিনীর ওপর এই অনবরত হামলা অঞ্চলটির মানবিক সংকট মেটানোর জন্য ত্রাণ বা সহায়তা বিতরণের প্রক্রিয়াকে আরও বেশি হুমকির মুখে ফেলছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে গাজায় মানবিক সহায়তার পরিমাণ বাড়ানোর কথা থাকলেও ইসরায়েল ত্রাণ প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে।

হানি মাহমুদ বলেন, এটি গাজা উপত্যকাকে আরও বেশি বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দেয়ার এবং অবশিষ্ট বেসামরিক শৃঙ্খলাকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করার একটি অপচেষ্টা।

এর ফলে অঞ্চলটিতে প্রশাসনিক বা নেতৃত্বের শূন্যতা আরও প্রকট হচ্ছে, যা সবচেয়ে বেশি অভাবী এলাকাগুলোতে ত্রাণের কনভয় পৌঁছানো কঠিন করে তুলছে এবং ত্রাণ সামগ্রী ছিনতাই ও লুটের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত