অনেক স্বপ্ন নিয়ে প্রথম সারির মার্কিন তথ্য-প্রযুক্তি সংস্থা ট্রেডশিফটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সেক্রেটারি হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন তরুণী। ভেবেছিলেন, অনেক কিছু শিখতে পারবেন। দ্রুত উন্নতি হবে কর্মজীবনে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই ভেঙে যায় তার সব স্বপ্ন।
তরুণীর অভিযোগ, তাকে যৌনদাসত্বের চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করেন সিইও ক্রিশ্চিয়ান ল্যাং। এরপর বছরের পর বছর তার ওপর যৌন অত্যাচার হয়েছে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে সান ফ্রান্সিসকোয়। পরে একের পর এক যৌন হেনস্থার অভিযোগ ওঠায় চলতি বছরের শুরুতে বরখাস্ত করা হয় ল্যাংকে।
নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, ৪৫ বছর বয়সী ল্যাংয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ করেন সংস্থার এক প্রাক্তন কর্মী। তার অভিযোগ, সেক্রেটারি হিসাবে নিয়োগের কয়েক মাস পর তাকে নয় পৃষ্ঠার একটি যৌনদাসত্বের চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করেন ল্যাং। এরপর বিভিন্ন উপায়ে তাকে শারীরিক যন্ত্রণা দেওয়া হত। যেমন : গায়ে-মুখে প্রস্রাব করে দেওয়া এবং বিকৃত যৌনাচার।
তরুণী জানান, যৌনদাসত্বের চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ল্যাং যখন যেভাবে যৌনতা করতে চাইবেন, তাকে সেই প্রয়োজন মেটাতে হবে। তাকে কখনো প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। চুক্তিতে আরও বলা হয়, ল্যাংকে দিনের প্রথমে একান্তে পেলে হাঁটু গেড়ে বসে জিজ্ঞেস করতে হবে, তরুণী তার জন্য কী করতে পারেন। এমনকি তরুণীর ওজন কত হবে, তাও বেধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কেন এমন চুক্তিতে সই করেছিলেন ওই তরুণী?
তিনি জানিয়েছেন, চাকরি হারানোর ভয়ে চুক্তিতে সই করেন তিনি। তবে প্রাথমিকভাবে তাকে যে কাজ করতে হত, তা তার পছন্দ ছিল। অফিসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় ছিলেন তিনি। তার দাবি, ২০২০ সালে নয় পৃষ্ঠার যৌনদাসত্বের চুক্তি নিয়ে মানবসম্পদ বিভাগে অভিযোগ করার পর তাকে বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে যার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে, সেই ক্রিশ্চিয়ান ল্যাং সব অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তরুণীর সম্মতি নিয়েই তার সঙ্গে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হয়েছিলেন। ২০১৪ সালে ওই তরুণীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে তাকেই সেক্রেটারি নিয়োগ করেছিলেন। আর এটাই ছিল তার বড় ভুল।
