১৪ দলের আসন ভাগাভাগি: প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ চান অসন্তুষ্ট নেতারা

আপডেট : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:১৯ পিএম

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর জন্য ৭টি আসন ছেড়েছে ক্ষমতাসীনরা। এই ৭জন জোটের প্রতীক হিসেবে নৌকা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেবেন। ইতিমধ্যে শরীকদের অনেকেই আসন বণ্টন নিয়ে অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন। তারা এখন জোটের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আসন বৃদ্ধির অনুরোধ জানাতে চান।

এবার আওয়ামী লীগ ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাসদকে ৩টি করে ও জাতীয় পার্টিকে (জেপি) ১টি আসন দিয়েছে। তবে ৩টি আসন পেয়েও সন্তুষ্ট নয় ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, জোটের শরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা ছিল আরও বেশি আসন। আমরা যে ৩টি আসন পেয়েছি তা নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই। কিন্ত এরপরও জোটের স্বার্থে আমরা মেনে নিয়েছি।

তিনি বলেন, এই জোট কোনো নির্বাচনী জোট নয় এটা আদর্শিক জোট। আমরা জোটের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চেষ্টা করব জোটের জন্য আরও কিছু আসন বাড়ানোর।

এবার জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) ৩টি আসন পেলেও জোটের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার। শিরিন আখতার সর্বশেষ নির্বাচনে ফেনী-১ আসন থেকে জোটের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করেন। জোটের আসন বণ্টন নিয়ে শিরিন আখতার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমাদের সভাপতি ইনু ভাই ইতিমধ্যে জানিয়েছেন এই আসন বণ্টন নিয়ে জাসদ সন্তুষ্ট নয়। আমরা জোট নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আসন বৃদ্ধির অনুরোধ জানাব।

১৪-দলীয় জোটের শরিকদের যে সাতটি আসন দেওয়া হয়েছে, এর বেশি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, শরিক দলের যত নেতা আছেন, তাদের সবার এবার নির্বাচন করার সুযোগ আছে। তারা যার যার প্রতীক নিয়ে নির্বাচন অংশ নিতে পারবেন। কারও ব্যাপারে কোনো বাধা নেই।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে শিরিন আখতার বলেন, উনার বক্তব্য আমি দেখেছি। তবে এটা রাজনৈতিক বক্তব্য। ১৪ দলীয় জোটের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নেত্রীর সঙ্গে দেখা করে কথা বলা গেলে আরও কিছু আসন পাওয়ার ব্যাপারে জোটের নেতারা আশাবাদী।

এবার জাতীয় পার্টিকে (জেপি) একটি আসনে ছাড় দেওয়া হয়েছে। দলটির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু জোটের প্রার্থী হিসেবে পিরোজপুর-২ আসন থেকে নৌকায় নির্বাচন করবেন। জেপির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম ঢাকা-১৪ আসনে জোটের মনোনয়ন চাইলেও পাননি। তিনি বলেন, ১৪ দলীয় জোট কোন নির্বাচন কেন্দ্রিক জোট নয়। এরপরও যেহেতু নির্বাচন সামনে তাই আসন সমঝোতা হয়েছে। জোটের জন্য আওয়ামী লীগ যে আসন ছেড়েছে তাতে কেবল আমরা নয় জোটের সব দলই অসন্তুষ্ট। আমরা মনে করি এটা চূড়ান্ত তালিকা নয়।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাবে তিনি বলেন, ওবায়দুল কাদের যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা রাজনৈতিক বক্তব্য। ওবায়দুল কাদের প্রকাশ্যে জোট রাখা না রাখা নিয়ে এর আগে বক্তব্য দিয়েছিলেন কিন্ত এই জোট আছে এবং থাকবে। তার বক্তব্য জোটের বক্তব্য নয়, সুতরাং এই বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। ১৪ দলীয় জোটের নেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নেত্রীর সঙ্গে দেখা করে আমরা আলোচনা করতে চাই। 

২০০৮ সাল থেকেই ১৪ দল ও আওয়ামী লীগ জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করে আসছে। তিনটি জাতীয় নির্বাচনের দুটিতে জোটের শরিক হিসেবে ছিল জাতীয় পার্টিও। তবে ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের পর জাতীয় পার্টি জোটে ছিল না। এবারও বিএনপি ভোটে আসেনি, জাতীয় পর্টিকেও জোটে রাখা হয়নি।

একাদশ নির্বাচনে ১৪ দলের শরিকদেরকে ১৬টি আসনে ছাড় দেয় আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৫টি আসন পায় ওয়ার্কার্স পার্টি। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ ও বিকল্পধারা পায় ৩টি করে আসন। তরীকত ফেডারেশন ও জাতীয় পার্টি (জেপি) পায় ২টি করে আসন এবং বাংলাদেশ জাসদ পায় ১টি।

এবার বিকল্পধারা ও তরিকত ফেডারেশন থেকে কেউই জোটের মনোনয়ন পাননি। তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী ২০০৮ সাল থেকে টানা ৩মেয়াদে জোটের প্রার্থী হিসেবে জয়লাভ করে সংসদে রয়েছেন। জোটের মনোনয়ন বিষয়ে জানতে চাইলে নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেন, এখনও সময় আছে। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল। তিনি চাইলে এখনও জোটের মনোনয়ন পাওয়া সম্ভব।

চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে জোটের মনোনয়ন চেয়েছিলেন সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। তবে শেষ পর্যন্ত তাকেও মনোনয়ন বঞ্চিত রাখা হয়েছে। তার আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী দলের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের ছেলে মাহবুবুর রহমান রুহেল।

আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের মধ্যে কিছুটা টানাপোড়ন চলছিল। বিএনপি ও তাদের মিত্ররা একসঙ্গে রাজপথে সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করলেও ১৪ দলের নেতাদের অনেকক্ষেত্রেই পাশে পায়নি আওয়ামী লীগ। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয়েছিল। আবার হেফাজতে ইসলামসহ জোটের বাইরের বিভিন্ন দলকে গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছিল শরিকদের অনেকেই।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত