দেশে এখন পর্যন্ত ব্যাংক খাতে দুটি কমিশন হয়েছে। তখন কমিশনে কিছু বিষয় উঠে এসেছিল। তবে খুব বেশি অ্যাকশন যে নেওয়া হয়েছিল তা নয়। দেশে এখন ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা চলছে, সুশাসনের অভাব চলছে। এর সমাধানের জন্য অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে রাখা উচিত। যে কাজ আগে করার কথা সেটা করা হচ্ছে পরে। যেমন- আমাদের দেশে বেসরকারি ব্যাংক অনুমোদন হয়েছে ১৯৮৩ সালে আর ব্যাংক কোম্পানি আইন হয়েছে ১৯৯১ সালে। আগে আইন করে পরে ব্যাংক দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু ব্যাংক দেওয়ার ১০ বছর পর ব্যাংক কোম্পানি আইন হয়েছে। একই কথা আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইনেও।
এখন ওপরের স্তরের ব্যাংকাররা পর্ষদের দিকে তাকিয়ে থাকে। নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এ ক্ষেত্রে মোস্ট সিনিয়র ম্যানেজমেন্টের লোকেরা অজুহাত দেয় বোর্ড অনুমতি দেবে কিনা? তাহলে সিদ্ধান্তটা কে দেবে? এর জন্য আমাদের খারাপ দিক উল্লেখ করে বোর্ডে নিয়ে যেতে হবে।
ঋণের জন্য যে জামানত দেওয়া হয়, তা নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক আছে। একই জমি বিভিন্ন ব্যাংকে জামানত দেখিয়ে ঋণ নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই জামানতের পর্যাপ্ততা নিয়ে অভিযোগ আছে। এ সমস্যা সমাধানে ১০ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ন্যাশনাল কোলেটারাল রেজিস্ট্রি করার পরামর্শ দিয়ে আসছি। ন্যাশনাল কোলেটারাল রেজিস্ট্রি হলো একবার কেউ একটি জমিকে বন্ধক রেখে ঋণ নিলে সেটি অনলাইনে উঠে যাবে। আর কেউ যাতে এ জমি নিবন্ধন দেখিয়ে ঋণ নিতে না পারে। একজনের জমি আরেকজন বন্ধক নিতে পারবে না। ঋণের ক্ষেত্রে জামানতের ডিজিটালাইজেশন কেন হচ্ছে না?
আমাদের বিচারব্যবস্থায় দীর্ঘসূত্রতার কারণেও ব্যাংকব্যবস্থায় প্রভাব ফেলে। নিম্ন আদালতে যদি ব্যাংকের পক্ষে রায় আসে সেটি উচ্চ আদালতে আপিল করে তা দীর্ঘসময় ঝুলিয়ে রাখে। আমরা বার বার বলার চেষ্টা করেছি, রিটের সময় ঋণের ৫০ শতাংশ জমা দিতে হবে। কিন্তু সে ক্ষেত্রে বিনা পয়সায় গিয়ে রিট করছে, যার কারণে নিম্ন আদালতের রায় কেউ মানছে না। যার ফলে এই মিস ম্যানেজমেন্টগুলো আমাদের ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থাপনার জন্যই হচ্ছে। দক্ষতার ক্ষেত্রেও আমাদের উন্নতি নেই। বিদেশে শ্রমিক পাঠাতে প্রয়োজন হয় টেকনিক্যাল স্কিল। কিন্তু আমরা কতটা দক্ষ লোক তৈরি করতে পেরেছি, যারা বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাতে আমাদের সহায়তা করবে।
