কলকাতার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী টিনা ঘোষাল সম্প্রতি বাংলাদেশে এসেছিলেন। বঙ্গবন্ধু মিলিটারি মিউজিয়ামে কনসার্ট করে দেশে ফিরে গিয়েছেন। রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রবীন্দ্র সংগীত বিষয়ে স্নাতকোত্তর করলেও বাংলা ভাষায় র্যাপ করেছেন এবং লোকগানের সঙ্গে তার ফিউশন করেছেন। এসব ফিউশন আলোচিত হচ্ছে দুই বাংলায়। টিনার ভাষায়, ‘আমি স্নাতকোত্তর করে দেখলাম রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে লালনের একটা যোগসূত্র রয়েছে। রবীন্দ্র সংগীত নিয়ে পড়াশোনা করার পরেও এই বিষয়টি আমাকে ভাবাচ্ছিল। এরপরে আমি লালনের গানের সন্ধানে আশ্রমে আশ্রমে ঘুরতে শুরু করলাম। এভাবেই আমার লোকগানের শুরুটা হয়।’ র্যাপকে বাংলায় ভাষায় সমৃদ্ধ করেছেন টিনা ঘোষাল। র্যাপকে পশ্চিমা সংস্কৃতির অংশ ভাবতে নারাজ এই গায়িকা। তার ভাষায়, ‘বলিউডে যখন র্যাপ চালু হলো তখন এর সমালোচনাও শুরু হলো। কিন্তু আমার কাছে মনে হলো এখানে সমালোচনার কিছু নেই। র্যাপ মোটেও বিদেশি সংস্কৃতি নয়, আমি মনে করি আমাদের দেশের কবিগানের মতোই র্যাপ। কবিগানে যেমন চারণ কবি স্তাহে সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে গান করেন তেমনি র্যাপও ছন্দ সমৃদ্ধ। আমার মনে হয় এরমধ্যে সমাজ সচেতনতার বার্তা রয়েছে।’
টিনা নিজের গানের জন্য একাধিকবার ভারতের বিভিন্ন পুরস্কার পেয়েছেন। কিন্তু গান চালিয়ে যাওয়াটা টিনার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। ২০০৯ সালে ব্রেইন টিউমারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। অস্ত্রোপচার করা হয়। কিন্তু মাথায় হাড়ের অংশ কাটা থাকায় চিকিৎসকরা গান নিষিদ্ধ করেন। কিন্তু মনের জোরে চালিয়ে গেছেন গান। ২০১৫ সালে বিয়ে করেছেন। দুজনের সংসারে রয়েছে এক পুত্র। টিনা বলছেন, ‘আসলে শরীর বিষয় নয়, মনের জোর হচ্ছে আসল। আমি মনের জোরে চলছি।’ টিনার বেশকিছু গান মুক্তি পেয়েছে। ইউটিউব ঘাঁটলেই টিনার অসংখ্য ফিউশন পাওয়া যায়। বিভিন্ন বিদেশি নামি শিল্পীর গানের সঙ্গেও ফিউশন করেছেন। টিনার ইচ্ছা বাংলা ভাষার এই প্রচেষ্টা বিশ্বের ভিন্ন ভাষাভাষীর মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান। টিনা নিজেই লেখেন নিজেই সুর করেন। এখন নিজের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের নেক্সাস টেলিভিশনে টিনা ঘোষালের সঙ্গে সাতদিন নামে একটি পর্ব করে গেছেন। জাকিয়া সুলতানার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি প্রচার হবে ২১ ডিসেম্বর।
