বিশ্ব বাণিজ্যে নতুন শঙ্কা

আপডেট : ২১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:২০ এএম

গাজায় ইসরায়েলি হামলার জবাবে গত মাস থেকে ইয়েমেনের শিয়া মতাবলম্বী হুতি বিদ্রোহীরা হামলা শুরু করে। ইসরায়েলের মূল ভূখন্ড ছাড়াও ইসরায়েলের বন্দরগামী জাহাজে এসব হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতিরা। এর মধ্যে মার্কিন উদ্যোগে লোহিত সাগরে জাহাজের নিরাপত্তায় বৈশ্বিক জোট গঠন করা হয়েছে। কিন্তু বিশ্লেষকরা বলছেন, যতই পদক্ষেপ নেওয়া হোক, লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে এমন অস্থিরতা আন্তর্জাতিক পণ্য বাণিজ্যসহ তেলের দামকে অস্থির করে তুলতে পারে।

গত ৩ ডিসেম্বর ইরানের মদদপুষ্ট হুতি সন্ত্রাসীরা ইয়েমেনের কাছে লোহিত সাগরে কয়েকটি পণ্যবাহী মার্কিন জাহাজের ওপর আক্রমণ চালায়। এরপর অধিকাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ সংস্থা ঠিক করে, তারা লোহিত সাগর এড়িয়ে চলবে। এশিয়া থেকে ইউরোপের পথে পণ্য তেল বাণিজ্যে লোহিত সাগর হলো সবচেয়ে সহজ রাস্তা। লোহিত সাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পেরিয়ে সুয়েজ খাল ধরে অতিক্রম করে জলপথ। এই পথকে এড়িয়ে যেতে হলে জাহাজগুলোকে আফ্রিকায় প্রবেশ করা ছাড়া উপায় নেই। বর্তমানে এই ঘুরপথেই যাচ্ছে জাহাজগুলো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, এতে জাহাজগুলোর গন্তব্যে পৌঁছতে এক সপ্তাহ পর্যন্ত বেশি সময় লাগছে। এতে পরিবহন খরচ বাড়ছে। সুয়েজ খাল দিয়ে মোট বৈশি^ক বাণিজ্যের ১২ শতাংশ হয়। এখন এই বাণিজ্য কার্যত বন্ধই রয়েছে। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের কার্যকলাপ এমনকি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। ইসরায়েলের দিকে লক্ষ করে  ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পাশাপাশি হুতিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্যও হুমকি হয়ে উঠছে। প্রতিনিয়ত তারা তাদের আক্রমণ বাড়িয়েই চলেছে। তারা নতুন করে ঘোষণা করেছে, মার্কিন বাহিনীর নেতৃত্বে যে প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে তা ইসরায়েলকে রক্ষা করতেই হয়েছে।

গত সোমবার এক রাসায়নিক বা তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজের উপর ড্রোন ও জাহাজ-বিধ্বংসী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা করে হুতি বিদ্রোহীরা। এ নিয়ে হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারেনা বলেন, ‘জাহাজের আরোহীরা বার্তার জবাব না দেওয়ায় হামলা চালানো হয়েছে।’ হুতিরা হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে, ইসরায়েলগামী সব জাহাজের উপর হামলা হবে।

এর মধ্যে ওইদিন সোমবারই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিন জানান, লোহিত সাগরের জন্য একটি নতুন বহুজাতিক প্রতিরক্ষা বাহিনী তৈরি করা হচ্ছে। পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে আক্রমণকারীদের হাত থেকে রক্ষা করতে কাজ করবে এই জোট।

ইসরায়েল সফরের পর বাহরাইনে গিয়ে এই বহুজাতিক বাহিনী গড়ার ঘোষণা দেন অস্টিন। বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর আঞ্চলিক সদরদপ্তর থেকে তিনি ওই ঘোষণা দেন। ‘অপারেশন প্রসúারিটি গার্ডিয়ান’ নামের বহুদেশীয় নিরাপত্তা উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি বাহরাইন, ব্রিটেন, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি,  নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সেশেলস ও স্পেন যোগ দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে জিনিসপত্রের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে। সাংহাই থেকে রটারডাম যদি কেপ অফ গুড হোপ হয়ে যেতে হয়, তাহলে জাহাজের তেলের দামই এক মিলিয়ন ডলার বেশি পড়ে। পণ্য সংস্থাগুলো কখনোই আর্থিক ক্ষতি নিজেদের কাঁধে রাখবে না। এর ফলে দাম যাবে বেড়ে।  উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই পথে যাত্রা করা জাহাজগুলোর বিমার মূল্যও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ডেনমার্কের কোপেনহাগেনের একটি সংস্থার বাজার বিশেষজ্ঞ মনে করেন, ‘জাহাজের এই বিকল্প রাস্তা দিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক বাজারে ইতিমধ্যেই প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।’

আবার ইউরোপের বন্দরগুলোতে নির্দিষ্ট কাজের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ লোক আছে। জাহাজ চলাচলের অনিয়ম তৈরি হওয়ায় কাজের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। অনেক বন্দরে কিছুদিন শ্রমিকরা বসে থাকার পর এখন চাপ বাড়ছে কয়েক গুণ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত