এবার ফুলের গাছ খাওয়ার অপরাধে চারটি ছাগলকে খোঁয়াড়ে পাঠালেন আদমদীঘির সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তার হোসেন। যদিও ছাগল খোঁয়াড়ে পাঠানোর বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ওসি। তবে খোয়াঁড় মালিক মো. পিন্টু জানিয়েছেন, থানায় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্য তার খোয়াঁড়ে চারটি ছাগল দিয়ে গেছে।
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর) দুপুরে সান্তাহার জংশন স্টেশনের প্লাটফর্মে ঘোরাঘুরি করছিল চারটি ছাগল। ওই এলাকায় থানার ফুলের গাছ খাওয়ার অপরাধে তাদের আটক করে দমদমা গ্রামের মো. পিন্টুর খোঁয়াড়ে দিয়ে আসা হয়। আর এই নির্দেশ দেন ওসি মোক্তার হোসেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১৫ ডিসেম্বর ফুলের গাছ খাওয়ায় ছাগল আটক করে টাকা নেয়ায় ওসি মোক্তার হোসেন আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। ফলে তার নির্দেশ ছাড়া কোনো পুলিশ সদস্য নিজ দায়িত্বে খোঁয়াড়ে ছাগল দিয়ে আসতে পারবে না। আবার কেউ কেউ বলছেন, টাকার বিনিময়ে ছাগল ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় খবর প্রকাশ হলে ক্ষুব্ধ ছিলেন ওসি মোক্তার হোসেন। নিজের অপরাধ ঢাকতেই তিনি এ কাজ করেছেন।
খোঁয়াড় মালিক মো. পিন্টু বলেন, ‘মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ এসে চারটি ছাগল খোঁয়াড়ে দিয়ে যায়। পরে টাকা দিয়ে মালিকেরা আমার খোঁয়াড় থেকে ছাগল নিয়ে যায়।’
খোঁয়াড় থেকে ছাগল নিয়ে আসা বিপ্লব নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি শুনেছি পুলিশ ছাগল ধরে খোঁয়াড়ে দিয়েছিল। এর মধ্যে দুটি ছাগল লিটনের। তিনি বিষয়টি আমাকে জানালে আমি ১৪০ টাকা দিয়ে ছাগল দুটি নিয়ে আসি।’
ছাগল মালিক লিটন বলেন, ‘আমি শুনেছি আমার দুটি ছাগল স্টেশনে ফুলের গাছ খেয়েছিল। তাই প্লাটফর্ম থেকে ধরে নিয়ে ছাগল খোঁয়াড়ে দেওয়া হয়। পরে খোঁয়াড় থেকে ছাগল নিয়ে এসেছি।’ তবে কারা ছাগল খোঁয়াড়ে দিয়েছে সে বিষয়ে তিনি জানেন না বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে ওসি মোক্তার হোসেনের ফোনে কল দিলে তিনি বলেন, ‘আমি এগুলো জানি না ভাই। কে ছাগল ধরেছিল, কি করেছিল— এগুলো আমাকে বলবেন না প্লিজ। যদি কেউ ছাগল ধরে থাকে, বিধি নিয়মে ধরেছে।’
আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ছাগল খোঁয়াড়ে দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুলিশ যদি দিয়ে থাকে, তাহলে দিয়েছে।’ এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি সংযোগ কেটে দেন।
আরও পড়ুন
ফুলের গাছ খেয়েছিল ছাগল, টাকা খেলেন ওসি