২৩০ কেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ চিহ্নিত করেছে সিএমপি

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৫:১৪ এএম

চট্টগ্রাম জেলার আংশিক এলাকাসহ নগরীর সাতটি সংসদীয় আসনে ভোটকেন্দ্র ৪৬০টি। এর মধ্যে ২৩০টিকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করে নিরাপত্তা ছক চূড়ান্ত করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আ স ম মাহতাব উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত জেলার ৯টি আসনে নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়নি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন।

মাহতাব উদ্দিন জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী আসন্ন সংসদ নির্বাচনে নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাঁচ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হবে। সাধারণ কেন্দ্রে দুজন অস্ত্রসহ পুলিশ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে মোতায়েন থাকবেন তিনজন অস্ত্রসহ পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া আনসার (১২ জন) ও গ্রাম পুলিশ থাকবে দুজন। তিনি জানান, পাঁচ কারণে নগরীর ২৩০ ভোটকেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হলোÑ সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে ভোটার বেশি, ভোটকেন্দ্রের নিকটবর্তী প্রার্থীর বাড়ি, ওই কেন্দ্রে একাধিক প্রার্থী প্রভাব বিস্তার করতে পারেন, এর আগের জাতীয় নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে সংঘাত বা মারামারি সংঘটিত হয়েছে এবং কেন্দ্রটিতে সহজভাবে যাতায়াত করা যায় না এবং হেঁটে যেতে হয়।

সিএমপি সূত্র জানায়, নগরের দামপাড়া পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ভোটের আগে এবং ভোটের দিন নিরাপত্তার বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হবে। এজন্য ওই ভোটকেন্দ্রকে একটি ম্যাপে লাল রঙ দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মহানগরীর মধ্যে চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং) ও ১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) সংসদীয় এলাকায় আওয়ামী লীগ মনোনীত ছাড়াও দল থেকে একাধিক নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়াইয়ে থাকায় এ দুটি আসনে ভোটের দিন পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে। ভোটার টানতে কিংবা ভোটকেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার নিয়ে নিজেরা লিপ্ত হতে পারে সহিংস-সংঘাতে।

সিএমপির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের অংশগ্রহণ উন্মুক্ত করে দেওয়ায় চট্টগ্রামের আসনগুলোর ভোটের রাজনীতিতে বিভাজন দেখা দিয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আওয়ামী লীগের হওয়ায় নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে তৃণমূলের রাজনীতিতে সমর্থকদের দ্বন্দ্ব।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন বাচ্চুর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী চসিকের সাবেক মেয়র ও ব্যবসায়ী মনজুর আলম ও মহানগর যুবলীগ নেতা ফরিদ মাহমুদ চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর ও পতেঙ্গা আসনে)। বর্তমান আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও সাবেক চেম্বার সভাপতি এম আবদুল লতিফের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়াউল হক সুমন। এই সুমনের পক্ষে নগর আওয়ামী লীগের প্রায় সব নেতা একাট্টা হয়েছেন। এ দুটি আসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ দৃষ্টি থাকবে বলে জানিয়েছেন সিএমপির একাধিক কর্মকর্তা।

৭ জানুয়ারি নির্বাচনে নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইসির নির্দেশে বৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জমা নিতে গতকাল সিএমপির সদর দপ্তর থেকে ১৬ থানার ওসির কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আ স ম মাহতাব উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দুয়েক দিনের মধ্যে বৈধ অস্ত্র থানায় জমা দিতে ব্যবহারকারীদের কাছে নির্দেশনা পাঠাব।’ এক প্রশ্নের উত্তরে সিএমপির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘আসন্ন নির্বাচন ঘিরে বেআইনি অস্ত্র যে ব্যবহার হবে না এমন আশঙ্কাও করছি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত