লার্স উলরিচ যখন তার টামা সিগনেচার ড্রাম সেটটির সামনে বসেন—তখন দুলে ওঠে গোটা দুনিয়া।
৬০-এ পা দিলেন এই হেভি মেটাল রিদম মেশিন। ১৯৬৩ সালের আজকের এই দিনে পৃথিবীর মাটিতে নিঃশ্বাস নেন এই ড্যানিশ বংশোদ্ভুত মার্কিন মিউজিশিয়ান। যদিও টেনিস খেলা ছিল আর রক্তে তবুও সেদিকে না গিয়ে নিজেকে মিউজিশিয়ান হিসেবে গড়ে তোলেন।
লার্সের বয়স যখন ৯ তখন একটি ঘটনা বদলে দেয় তার জীবন। ১৯৭৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর বাবা প্রখ্যাত ড্যানিশ টেনিস খেলোয়াড় টর্বেন উলরিচ তার বন্ধুদের জন্য পাঁচটি টিকেট ব্যবস্থা করে দেন যাতে তারা কোপেনহেগেনে ডিপ পার্পলের একটি শো দেখতে পারেন। কিন্তু তাদের একজন না যাওয়ায় ওই শোতে যাওয়ার সুযোগ পান ৯ বছরের লার্স। আর এখান থেকেই শুরু। ডিপ পার্পলের শো দেখে লার্স সেই ছোট্ট বয়সেই সিদ্ধান্ত নেন, তিনি বড় হয়ে মিউজিশিয়ান হবেন। এ ঘটনা স্মৃতিচারণ তিনি অনেকবার করেছেন। এবং তিনি যে ডিপ পার্পল এবং সেই সময়ের ব্যান্ড দ্বারা প্রভাবিত সে কথা অকপটে স্বীকারও করেছেন।
১৩ বছর বয়সে প্রথম ড্রামসে হাত রাখেন লার্স। এর পর এর প্রেমে পড়ে নিজের টেনিস ক্যারিয়ারকে ছুড়ে দেন, অনেক সুযোগ থাকা সত্ত্বেও।
১৯৮১ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় তার সাথে দেখা হয় জেমস 'পাপা' হেটফিল্ডের। গড়ে ওঠে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী মেটাল গ্রুপ 'মেটালিকা'। এর পর শুধু উড়তে থাকা। 'কিল দেম অল' থেকে 'সেভেনটি টু সিজন্স' পর্যন্ত ১১টি স্টুডিও অ্যালবামেই আছে তার শক্তিশালী উপস্থিতি। তার হেভি সাউন্ডেড ড্রামিং মনে থাকে মেটাল সাউন্ডপ্রেমীদের।
ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে দ্রুতগতির ড্রামিং পছন্দ ছিল তার। পরে ধীরে ধীরে তা কমে আসে। পরে অন্যরকম ও কড়া বাজানো পছন্দ করেন তিনি। তিনি মানিয়ে নিয়েছেন মেটালিকার সঙ্গে কিংবা বলা যায় মেটালিকা তার রিদমে অভ্যস্ত হয়েছে।
লার্স এর বিষয়ে ব্যান্ডের ফ্রন্টম্যান, ভোকাল ও রিদম গিটারিস্ট জেমস হেটফিল্ড বলেন, ও যখন কিছু বাজায় তখন আমরা সবাই চুপ থাকি। আমরা ওর বাজানো উপভোগ করি। এটা আমাদের সবার অন্যতম পছন্দের বিষয়। একটা মানুষ কতটা ভালো এবং কতটা দারুণ মিউজিশিয়ান তা গত চার দশক ধরে আমি ভীষণভাবে উপলব্ধি করছি। ওর কোনো বিকল্প নেই। লার্স উলরিচদের বিকল্প হওয়া সম্ভব না।
শুভ জন্মদিন, লার্স উলরিচ। আপনার বিকল্প খুঁজতে চায় না মেটাল গানের দুনিয়া।
ইমরোজ বিন মশিউর
