রাজধানীর কামরাঙ্গীচরে ভাই হত্যা ও স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার প্রতিশোধ নিতেই রমজান আলী ওরফে পেটকাটা রমজানকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে সামনে আসে চুরি, মাদক, পরকীয়াসহ বেশ কয়েকটি ঘটনা।
গোয়েন্দা পুলিশ বলছে, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল চোরা জুয়েল ও পিচ্চি মনির। হত্যাকাণ্ডের পরে অন্যরা ধরা পড়লেও পিচ্চি মনির পালিয়ে যায় নারায়ণগঞ্জে, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়িতে। ভবঘুরে স্টাইলে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরেঘুরে এক পর্যায়ে খাগড়াছড়ির যার কাছ থেকে ইয়াবা এবং গাজা ক্রয় করে তার কাছে চলে যায় পিচ্ছি মনির।
গত বুধবার বান্দরবান থেকে পিচ্ছি মনিরকে গ্রেপ্তার করে কামরাঙ্গীরচরে ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
হারুন অর রশীদ জানান, গত ১৭ অক্টোবর ভোররাত্রে রমজান আলী ওরফে পেটকাটা রমজানকে তার কামরাঙ্গীরচরের বাসার সামনে পরপর পাঁচটি গুলি করে হত্যা করে পালিয়ে যায় অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা। ভিকটিমের বোন এই হত্যাকাণ্ড সংক্রান্তে একটি নিয়মিত মামলা করলে থানা পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে ডিবি পুলিশও মামলাটির তদন্ত শুরু করে। পরে ৯ নভেম্বর ডিবি একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ চোরা জুয়েল, টাইগার রাব্বি, আলী হোসেন ও সাগরকে গ্রেপ্তার করলে হত্যা রহস্য উন্মোচিত হয়।
ডিবির তদন্তে দেখা যায়, এলাকায় ইয়াবা ও গাঁজা ব্যবসা, চোরাই মোবাইল, সাইকেল ও স্বর্ণালংকারের কেনাবেচা, এক আসামির স্ত্রীর সাথে নিহত রমজানের অবৈধ সম্পর্ক এবং সর্বোপরি ২০১৭ সালে নিহত রমজান কর্তৃক অন্যতম আসামি পিচ্চি মনিরের বড় ভাইকে হত্যা সংক্রান্ত বিষয়ে ভিকটিমের সাথে আসামিদের দীর্ঘ বিরোধ ছিল। ভিকটিম রমজান তার স্ত্রী- পরিবার বিচ্ছিন্ন মাদক ব্যবসায়ী, ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ও এক রহস্যময় লোক ছিল।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, জুয়েল ও রানা কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে স্বর্ণালংকার চুরি করতে গিয়ে গুলি ভর্তি ম্যাগাজিনসহ ২টি পিস্তল চুরি করে ফেলে। ১০০০ পিস ইয়াবা আর ৭ কেজি গাঁজার বিনিময়ে জুয়েল তার ভাগে পাওয়া ১টি পিস্তল দিয়ে দেয় পিচ্চি মনিরকে। চুরি করা সেই পিস্তল দিয়েই পিচ্চি মনির, চোরা জুয়েল এবং টাইগার রাব্বি গত ১৭ অক্টোবর গভীর রাতে ৫ রাউন্ড গুলি করে খুন করে কামরাঙ্গীরচরের পেটকাটা রমজানকে।
গত বুধবার খাগড়াছড়ি থেকে মূল আসামি মনিরকে গ্রেপ্তার করে তারই দেখানো মতে কামরাঙ্গীরচর হতে উদ্ধার করা হয় ২ রাউন্ড গুলিসহ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সেই পিস্তলটি। এর আগে ৯ নভেম্বর এই হত্যাকাণ্ডের অপর ৪ আসামিকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলিসহ উদ্ধার করেছিল ডিবি।