চলতি বছর আফ্রিকার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ দেশ নাইজারে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বাজুম। বাজুম পশ্চিমাপন্থি নেতা হিসেবে পরিচিত। অভ্যুত্থানের পর পশ্চিম আফ্রিকার দেশটিতে অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভের পরিবর্তে সেনাদের স্বাগত জানাতে রাস্তায় নামে বহু জনগণ। তারা ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্সের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। বিশেষ করে সামরিক অভ্যুত্থানকবলিত দেশগুলোতে রাশিয়ার পতাকা হাতে নিয়ে ফ্রান্স ও পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে গণজোয়ার প্রায় সাধারণ দৃশ্য।
পশ্চিম আফ্রিকার আরেক দেশ মালিতে ২০২১ সালে কর্নেল আসিমি গোইটার নেতৃত্বে অভ্যুত্থান হয়। ক্যু-সমর্থকরা রাস্তায় বেরিয়ে আসে এবং রুশ পতাকা হাতে নিয়ে উল্লাস করে। গত বছর বুরকিনা ফাসোতে ক্যু ঘটান ক্যাপ্টেন ইব্রাহিম ত্রাউরে। এখানেও অভ্যুত্থানকারীরা রুশ পতাকা হাতে উল্লাস করে। উপনিবেশবাদ বিলুপ্তির পরও এই দেশ দুটির ওপর ফ্রান্সের প্রভাব ছিল। আফ্রিকার অন্যান্য সাবেক উপনিবেশে ক্যুয়ের পর একই দৃশ্য দেখা গেছে। রাশিয়ার প্রতি সমর্থন দেখা যায় মধ্য আফ্রিকার প্রজাতন্ত্রে, শাদ কিংবা আইভরি কোস্টেও। রাশিয়া এই ভূরাজনৈতিক কৌশলে ব্যবহার করছে ওয়াগনার গ্রুপকে। ইউক্রেন যুদ্ধে ভূমিকা রেখে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করে ওয়াগনার।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাদের বিশ্বাস, আফ্রিকা মহাদেশে রাশিয়া পশ্চিমা বিশে^র বিরুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া দেশগুলোকে নিয়ে একটি কনফেডারেশন গড়তে চাইছে। দেশগুলোতে অস্থিরতা তৈরিতেও কাজ করছে তারা। আফ্রিকার সাহারা মরুভূমির দক্ষিণাঞ্চলীয় এলাকা সাহেল অঞ্চল নামে পরিচিত। সশস্ত্র জিহাদি গোষ্ঠী, বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এবং নানা অপরাধী গোষ্ঠীর আনাগোনার জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত এই অঞ্চল। এখানকার সরকারগুলো দুর্নীতি ও অপশাসনে বন্দি। সাহেলসহ আফ্রিকার বিভিন্ন অংশের সাবেক ফরাসিভাষী উপনিবেশগুলো ফ্র্যাঙ্কোফোন আফ্রিকা যা দীর্ঘকাল ধরেই প্যারিসের প্রভাবে ছিল এবং এসব দেশে ফ্রান্সের ব্যবসায়িক অংশীদারিও দেখা গেছে। মরক্কোর রাবাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক বিয়েট্রিস মেসা বলেন, রাশিয়া তার নিরাপত্তা তৎপরতার মাধ্যমে আফ্রিকার মূল খেলোয়াড়দের হটিয়ে দেওয়ার একটি উপায় বের করতে পেরেছে।’
